সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

গামেন্টস শ্রমিক সোহেল দিনরাত কাজ করেও যে বেতন পায় তাতে তার সংসার চালাতে কষ্ট হয়। সময়েও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেনি। অন্যদিকে মালিক মুনাফার টাকা দিয়ে নতুন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুলছে। বর্তমানে তার সহকর্মীরা লক্ষ করে যে, পূর্বের তুলনায় সোহেলের কাজের গতি অনেক কমে গেছে। কাজে মন নেই। সবসময় মনমরা হয়ে থাকে।

  1. ক)

    Das Kapital' গ্রন্থের লেখক কে?

    (1)
  2. খ)

    ছেলের সাথে বাবার সম্পর্ক কোন ধরনের আতিসম্পর্ককে নির্দেশ করে? বুঝিয়ে লেখ

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মালিকের নতুন ফ্যাক্টরি খোলা কার্ল মার্কস-এর কোন তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সোহেলের কাজের গতি কমে যাওয়া ও আচরণ পরিবর্তনের তাত্ত্বিক কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Das Kapital' গ্রন্থের লেখক হলেন কার্ল মার্কস (Karl Marx)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছেলের সাথে বাবার সম্পর্ক 'রক্তের সম্পর্কভিত্তিক জ্ঞাতিসম্পর্ক' (Consanguineal Kinship)-কে নির্দেশ করে।

    রক্তের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যেসব জ্ঞাতিসম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকে রক্তভিত্তিক জ্ঞাতিসম্পর্ক বলা হয়। বাবা এবং ছেলের মধ্যকার এই জৈবিক ও বংশগত সংযোগ সম্পূর্ণভাবে রক্তের সূত্রে আবদ্ধ, যা সমাজস্বীকৃত এবং চিরন্তন। তাই এটি প্রাথমিক পর্যায়ের রক্তসম্পর্কভিত্তিক জ্ঞাতিসম্পর্কের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মালিকের মুনাফার টাকায় নতুন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলা কার্ল মার্কসের 'উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব' (Theory of Surplus Value)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    কার্ল মার্কসের উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি পণ্যের উৎপাদনমূল্য বা শ্রমমূল্য এবং তার বিক্রয়মূল্যের মধ্যবর্তী যে অতিরিক্ত মূল্য তৈরি হয়, তাকে উদ্বৃত্ত মূল্য বলে। পুঁজিপতি বা মালিক শ্রেণি শ্রমিকের উপযুক্ত পারিশ্রমিক না দিয়ে এই উদ্বৃত্ত মূল্যটি মুনাফা হিসেবে আত্মসাৎ করে। এভাবে পুঁজিপতিরা ক্রমেই আরও বেশি পুঁজি পুঞ্জীভূত করে এবং তা দিয়ে নতুন নতুন কারখানা বা ব্যবসা বিস্তার করে।

    উদ্দীপকে গার্মেন্টস শ্রমিক সোহেল দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও যে সামান্য মজুরি পায়, তাতে তার ন্যূনতম ভরণপোষণ চালানো কষ্টকর হয়। অন্যদিকে মালিক সোহেলদের শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত বিপুল উদ্বৃত্ত মূল্য (মুনাফা) কুক্ষিগত করে নতুন আরেকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গড়ে তুলছে। শ্রমিকের শ্রমশোষণ এবং পুঁজিপতির এই পুঁজি সঞ্চয়নের চিত্রটি সরাসরি কার্ল মার্কসের উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্বকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সোহেলের কাজের গতি কমে যাওয়া এবং বিষণ্ণ বা মনমরা হয়ে থাকার তাত্ত্বিক কারণ হলো কার্ল মার্কস বর্ণিত 'বিচ্ছিন্নতাবোধের তত্ত্ব' (Theory of Alienation)।

    পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় শ্রমিক কেবল শোষিতই হয় না, বরং উৎপাদন ব্যবস্থার কঠোর নিয়মে একপর্যায়ে সে কর্ম ও সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কার্ল মার্কসের মতে, পুঁজিবাদে শ্রমিক চার ধরনের বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়: (১) উৎপাদিত পণ্য থেকে বিচ্ছিন্নতা, (২) উৎপাদন প্রক্রিয়া বা কাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা, (৩) নিজের মানবিক সত্ত্বা বা প্রজাতিগত সত্ত্বা থেকে বিচ্ছিন্নতা, এবং (৪) সমাজ ও সহকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্নতা। কাজ যখন বেঁচে থাকার স্বাভাবিক আনন্দের উৎস না হয়ে বাধ্যতামূলক ও আত্মঘাতী শোষণের মাধ্যম হয়, তখন শ্রমিকের মধ্যে হতাশা ও একাকীত্ব সৃষ্টি হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সোহেল দিনরাত কাজ করলেও তার মৌলিক চাহিদাই পূরণ হচ্ছে না। মালিকের ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৃদ্ধির বিপরীতে সোহেল নিজেকে এক অর্থহীন যন্ত্রের অংশ মনে করতে বাধ্য হয়। নিজের শ্রমের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং শ্রমের ফল ভোগ করতে না পারায় তার মাঝে গভীর বিচ্ছিন্নতাবোধ কাজ করছে। এই তীব্র হতাশা এবং কাজকে নিজের অংশ মনে করতে না পারার কারণেই তার কাজের গতি কমে গেছে, কাজে মন বসে না এবং সে সবসময় মনমরা থাকে।

    সুতরাং, তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সোহেলের আচরণের এই মৌলিক পরিবর্তনের পেছনে পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার সৃষ্ট 'বিচ্ছিন্নতাবোধ'ই মূল ভূমিকা পালন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন