সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি বেসরকারি সংস্থা। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের নিমিত্তে ইহা ১৯৭২ সালে সিলেটের শাল্লা গ্রামে কার্যক্রম শুরু করে। দরিদ্র লোকদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীকরণার্থে সংস্থাটি কতিপয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ইহা দেশের বাইরেও কিছু সংখ্যক কার্যক্রম চালু করেছে।
- ক)(1)
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- খ)(2)
বেসরকারি সংস্থা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিকে কেন জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান বলা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত ভূমিকার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারি কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যক্তি বা জনসমষ্টির নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে জনকল্যাণার্থে গঠিত ও পরিচালিত অলাভজনক সংস্থাকে বেসরকারি সংস্থা (NGO) বলে। এটি আইনগতভাবে নিবন্ধিত হয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশের প্রখ্যাত বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক (BRAC), যা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজ করলেও উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একটি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান।
যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র দেশের ভৌগোলিক সীমানায় জনগণের কল্যাণে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও তহবিলে পরিচালিত হয়, তাদেরকে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বলা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ে সিলেটের শাল্লায় গ্রামীণ জনগণের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়ে ফজলে হাসান আবেদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ের দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সমগ্র দেশের দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এটি স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই এটি একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে ব্র্যাক (উদ্দীপকের 'ক' প্রতিষ্ঠান)-এর ভূমিকা অপরিসীম ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে পুনর্বাসন কার্যক্রম দিয়ে শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি হাতে নেয়। এর ভূমিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্রঋণ: গ্রামীণ দরিদ্র, বিশেষ করে নারীদের সংগঠিত করে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
২. শিক্ষা কর্মসূচি: অবহেলিত ও ঝরে পড়া শিশুদের জন্য আনন্দ স্কুল ও উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাক্ষরতার হার বাড়িয়েছে।
৩. স্বাস্থ্যসেবা: ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে খাবার স্যালাইনের ব্যবহার গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়া, টিকাদান এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
৪. ক্ষমতায়ন ও সচেতনতা: আইনি সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে।অতএব, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টি, শিক্ষা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে তাদের সামগ্রিক ভাগ্যোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি এক অনন্য ও অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও