জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • কোষ বিভাজন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রোটোডার্ম কাকে বলে?
- খ)(2)
কোষচক্র বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'M' এর রাসায়নিক গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিভাজন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর যে অংশ থেকে উদ্ভিদের বহিরাবরণ অর্থাৎ ত্বক বা এপিডার্মিস ও এপিডার্মাল টিস্যুতন্ত্র সৃষ্টি হয়, তাকে প্রোটোডার্ম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি কোষ সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টির চক্রাকার ঘটনাপ্রবাহকে কোষচক্র (Cell cycle) বলে।
বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড ও পেল্ক (Howard and Pelc, 1953) কোষচক্রের প্রস্তাব করেন। কোষচক্র প্রধান দুটি ধাপে বিভক্ত: ইন্টারফেজ বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায় (যা মোট সময়ের প্রায় ৯০-৯৫%) এবং এম-ফেজ বা মাইটোটিক বিভাজন পর্যায় (যা মোট সময়ের প্রায় ৫-১০%)। কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিভাজনের সুশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণের জন্য কোষচক্র অপরিহার্য। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'M' হলো ক্রোমোজোম (Chromosome)। রাসায়নিকভাবে ক্রোমোজোম প্রধানত নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন এবং অন্যান্য উপাদান দ্বারা গঠিত:
১. নিউক্লিক অ্যাসিড: ক্রোমোজোমে দুই ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে—
- DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড): এটি ক্রোমোজোমের প্রধান স্থায়ী উপাদান (প্রায় ৪৫%)। এতে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন) এবং অজৈব ফসফেট থাকে।
- RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড): ক্রোমোজোমে স্বল্প পরিমাণে (প্রায় ০.২-১.৪%) আরএনএ থাকে।
২. প্রোটিন: ক্রোমোজোমের মোট ওজনের প্রায় ৫৫% প্রোটিন। প্রোটিন দুই প্রকার:
- হিস্টোন বা ক্ষারীয় প্রোটিন: এটি অধিক পরিমাণে থাকে (যেমন- H1, H2A, H2B, H3, H4) যাতে ক্ষারীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড (লাইসিন, আরজিনিন) বেশি থাকে।
- নন-হিস্টোন বা অম্লীয় প্রোটিন: এটি তুলনামূলক কম পরিমাণে থাকে এবং এতে অম্লীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড (ট্রিপটোফ্যান, টাইরোসিন) থাকে।
৩. অন্যান্য উপাদান: ক্রোমোজোমে সামান্য পরিমাণে লিপিড, বিভিন্ন ধরনের এনজাইম (যেমন- DNA পলিমারেজ, RNA পলিমারেজ) এবং কিছু ধাতব আয়ন (যেমন- , , ) থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি মায়োসিস বিভাজনের (নির্দিষ্টভাবে অ্যানাফেজ-১ ধাপ, যেখানে সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মেরুভিমুখী চলন ঘটছে)। জীবজগতে এই মায়োসিস বিভাজন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম:
১. জননকোষ সৃষ্টি: যৌন প্রজননক্ষম জীবে ডিপ্লয়েড () মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড () গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) বা স্পোর সৃষ্টিতে মায়োসিস অপরিহার্য।
২. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা: মায়োসিস প্রক্রিয়ায় জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। ফলে নিষেধের পর জাইগোটে পুনরায় প্রজাতির নির্দিষ্ট ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনরুদ্ধার হয় এবং বংশপরম্পরায় ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে।
৩. জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি: মায়োসিস-১ এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে। এর ফলে জিনের বিনিময় বা রিকম্বিনেশন ঘটে, যা নতুন জিনগত বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটায়।
৪. প্রজাতির অভিব্যক্তি ও বিবর্তন: ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে সৃষ্ট জিনগত প্রকরণ জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা ভ্যারিয়েশনের জন্ম দেয়, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ও নতুন প্রজাতি সৃষ্টিতে অর্থাৎ জৈব বিবর্তনে সহায়তা করে।
৫. গ্যামেটের বৈচিত্র্য ও প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা: মায়োসিসের সময় ক্রোমোজোমের স্বাধীন বিন্যাসের কারণে বিপুল সংখ্যক ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের গ্যামেট তৈরি হয়, যা পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে প্রজাতির অভিযোজন সক্ষমতা বাড়িয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।
অতএব, জীবদেহে বংশগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে উদ্দীপকের মায়োসিস প্রক্রিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও