‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

ভারতে বৈদিক পরবর্তী যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর শ্রেণির মানুষদের ভিন্ন চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শুদ্র শ্রেণির মানুষদের তারা মানুষই মনে করত না। এদের সাথে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করত না।

  1. ক)

    নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মস্থান কোথায়?

    (1)
  2. খ)

    অহিংস আন্দোলন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে আফ্রিকায় প্রচলিত কোন বিষয়ের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উত্ত ব্যবস্থা আফ্রিকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় ছিল'- উক্তিটির, যথার্থতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মস্থান দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজো গ্রামে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অহিংস আন্দোলন বলতে কোনো প্রকার শারীরিক বা সশস্ত্র সহিংসতা ছাড়াই দাবি আদায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামকে বোঝায়। এ ধরনের আন্দোলনে অহিংস প্রতিরোধ, অসহযোগ, সত্যাগ্রহ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এর একটি অন্যতম প্রধান উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শ্রেণিভেদ ও বৈষম্যের সাথে আফ্রিকায় প্রচলিত 'বর্ণবাদ' বা 'অ্যাপার্থাইড' (Apartheid) ব্যবস্থার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাচীন ভারতে উচ্চশ্রেণির ব্রাহ্মণরা বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির মানুষদের নিচু চোখে দেখত এবং তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক বর্জন করত। এটি ছিল মানুষের জন্মগত পরিচয়ের ভিত্তিতে চরম বৈষম্য।

    দক্ষিণ আফ্রিকায়ও একইভাবে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসকগোষ্ঠী কৃষ্ণাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ওপর চরম বৈষম্যমূলক বর্ণবাদী নীতি চাপিয়ে দিয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হতো এবং শ্বেতাঙ্গদের সাথে তাদের একত্র চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। সুতরাং, মানুষের জন্ম ও জাতভিত্তিক বৈষম্যের দিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আফ্রিকার বর্ণবাদের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উক্ত ব্যবস্থা আফ্রিকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় ছিল"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রচলিত বর্ণবাদ বা অ্যাপার্থাইড ব্যবস্থার কারণে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সামাজিক ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বাসস্থানের সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছিল। তাদের নিম্নমানের এলাকায় থাকতে বাধ্য করা হতো, যা সামাজিক অসমতা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করেছিল।

    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ফলে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত সৃষ্টি হয়।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সস্তা শ্রমে বাধ্য করা হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নত চাকরিতে প্রবেশের কোনো সুযোগ ছিল না। এর ফলে দেশের বিপুল মানবসম্পদের অপচয় ঘটে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ে।

    সুতরাং বলা যায়, বর্ণবাদী ব্যবস্থা আফ্রিকার সামাজিক সংহতি, রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন