সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. করিম তার আদরের মেয়েকে রহিমের ছেলের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় মি. করিম ছেলেকে একটি মোটর সাইকেল ও ৫০,০০০ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মোটর সাইকেল দিতে পারলেও ৫০,০০০ টাকার মাত্র ১০,০০০ টাকা দিতে পারেন। বিয়ের ৬ মাসের মধ্যেই বাকি টাকা এনে দেয়ার জন্য রহিম পুত্রবধুর উপর চাপ প্রয়োগ করেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশে শুধুমাত্র মুসলিম নারী ও শিশুকল্যাণে প্রযোজ্য আইনের নাম কী?
- খ)(2)
সামাজিক আইন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে সমস্যার প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যাটি মোকাবিলায় বাংলাদেশে প্রচলিত আইনটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে শুধুমাত্র মুসলিম নারী ও শিশুকল্যাণে প্রযোজ্য আইনের নাম 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও কার্যকরকৃত এমন কিছু বিধিবিধান, যা সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা দূরীকরণ, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োগ করা হয়। এ আইন সামাজিক অপরাধ ও অবিচার প্রতিরোধ করে সমাজে সাম্য, ন্যায়বিচার ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা 'যৌতুক প্রথা'-র প্রতিফলন ঘটেছে।
বিয়ে উপলক্ষে বর বা কনের পক্ষের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অর্থ, সম্পত্তি বা মূল্যবান জিনিস দাবি করা বা গ্রহণ করাই হলো যৌতুক। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. করিম তাঁর মেয়ের বিয়ের সময় জামাতাকে একটি মোটরসাইকেল ও ৫০,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মোটরসাইকেল ও ১০,০০০ টাকা দেওয়ার পর বাকি ৪০,০০০ টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় শ্বশুর রহিম পুত্রবধূর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
বিয়ের শর্ত হিসেবে বরপক্ষ কর্তৃক অর্থ দাবি করা এবং তা না পেয়ে নববধূর ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টির এই প্রবণতা স্পষ্টতই যৌতুক সমস্যার রূপ। এটি নারীর প্রতি সহিংসতা ও পারিবারিক অশান্তির অন্যতম প্রধান কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সমস্যাটি অর্থাৎ যৌতুক প্রথা মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচলিত 'যৌতুক নিরোধ আইন' অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশে যৌতুকের অভিশাপ রোধ করার জন্য ১৯৮০ সালে প্রথম 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয় (যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আরও কঠোর বিধানে যুগোপযোগী করা হয়েছে)। এই আইন অনুযায়ী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করা, গ্রহণ করা বা প্রদান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
উদ্দীপকে রহিম কর্তৃক পুত্রবধূর বাবার কাছে প্রতিশ্রুত অবশিষ্ট ৪০,০০০ টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যৌতুক নিরোধ আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকলে এমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব এবং অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা যায়। তবে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কঠোর বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি এবং যৌতুকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হলেই কেবল এ আইনের পূর্ণ যথার্থতা নিশ্চিত হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও