পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের সংবিধান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান কে ছিলেন?
- খ)(2)
বাংলাদেশ সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতি কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' কলামে বাংলাদেশ সংবিধানে কোনদিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' কলামে প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের সাথে বাংলাদেশ সংবিধানের পার্থক্য নিরূপণ করো। 8
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সংবিধান একটি দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সংসদ-সদস্যের অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের প্রয়োজন হয়। সাধারণ আইনের মতো সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটি সংশোধন করা যায় না। সংশোধনী বিলটি সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ কঠোর পদ্ধতির কারণেই বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘ক’ কলামে বাংলাদেশ সংবিধানের 'মৌলিক অধিকার' সংক্রান্ত দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রের সাধারণ আইন দ্বারা সহজে খর্ব করা যায় না এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।
উদ্দীপকের ‘ক’ কলামে উল্লিখিত বিষয়সমূহ হলো— আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭), সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা (অনুচ্ছেদ ২৯) এবং চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬)। এ বিষয়গুলো সরাসরি বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সন্নিবেশিত মৌলিক অধিকারের অংশ। সুতরাং, উদ্দীপকের ‘ক’ কলামে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিষয়টিই বাস্তবায়িত ও প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘খ’ কলামে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং সম্পত্তির দুই ধরনের মালিকানা। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে বাংলাদেশ সংবিধানের প্রত্যক্ষ পার্থক্য বিদ্যমান। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সরকারব্যবস্থা: উদ্দীপকের ‘খ’ কলামে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সংবিধানে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা-শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এখানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী এবং তারা তাদের কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। রাষ্ট্রপতি নামমাত্র বা নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২. আইনসভার প্রকৃতি: উদ্দীপকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার কথা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট, যার নাম ‘জাতীয় সংসদ’। এতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সদস্য এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনসহ মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য থাকেন।
৩. সম্পত্তির মালিকানা: উদ্দীপকের ‘খ’ কলামে দুই ধরনের মালিকানার কথা বলা হলেও বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পত্তির মালিকানা তিন ধরনের— রাষ্ট্রীয় মালিকানা, সমবায়ী মালিকানা ও ব্যক্তিগত মালিকানা।
উপরিউক্ত তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ‘খ’ কলামে প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশ সংবিধানের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বিপরীত এবং স্পষ্টভাবে পার্থক্য নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও