সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

তামীম দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা পাঠ করে নিচের ছকটি। তৈরি করে:

নৃগোষ্ঠী- ১ | রাজশাহী অঞ্চলে বাস | বহির্গোত্র বিবাহ প্রচলিত | সম্পত্তি পিতা থেকে 'পুত্র পায় | প্রধান উৎসব সোহরাই
নৃগোষ্ঠী- ২ | ময়মনসিংহ অঞ্চলে বাস | প্যারালাল কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ | সম্পত্তি মাতা থেকে কন্যা পায় | প্রধান উৎসব ওয়ানগালা

  1. ক)

    জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    জুম চাষ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী-১-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    নৃগোষ্ঠী-২-এর জীবনধারা ও বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে। তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে"- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জুম চাষ হলো পাহাড়ের ঢালে প্রচলিত এক ধরনের আদিম ও সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ। এ পদ্ধতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের জঙ্গল, গাছপালা ও লতাপাতা কেটে রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে জমি পরিষ্কার করা হয়। এরপর বর্ষার শুরুতে পোড়া ছাইয়ের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে একসাথে বিভিন্ন ফসলের (যেমন- ধান, তুলা, তিল, ভুট্টা প্রভৃতি) বীজ বপন করা হয়। মূলত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই চাষ পদ্ধতি প্রচলিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী-১ হলো বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'সাঁওতাল'।

    সাঁওতালরা প্রধানত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং পরিবারে পিতার মাধ্যমে বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়, অর্থাৎ পুত্রসন্তানরা সম্পত্তির মালিক হয়। সাঁওতাল সমাজে কঠোরভাবে বহির্গোত্র বিবাহ প্রচলিত; অর্থাৎ একই গোত্রে বিবাহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হলো 'সোহরাই' যা পৌষ মাসে নতুন ফসল ঘরে তোলার পর উদযাপিত হয়। সাঁওতালদের প্রধান পেশা কৃষি এবং তারা কায়িক পরিশ্রমে অত্যন্ত দক্ষ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী-২ হলো 'গারো' নৃগোষ্ঠী, যাদের সমাজ ও জীবনধারার সাথে বাঙালি সংস্কৃতির গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা বিদ্যমান।

    প্রথমত, পারিবারিক কাঠামোর দিক থেকে গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, যেখানে পরিবার ও সমাজের মূল ভিত্তি মা। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা (নকনা) সাধারণত পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় এবং বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে। পক্ষান্তরে, বাঙালি সমাজ সম্পূর্ণ পিতৃতান্ত্রিক, যেখানে পিতা পরিবারের প্রধান এবং পুত্রসন্তানেরা প্রধানত সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে।

    দ্বিতীয়ত, বিবাহরীতির ক্ষেত্রে গারো সমাজে একই মায়ের বংশোদ্ভূত ভাই-বোনের (প্যারালাল কাজিন) বিবাহ নিষিদ্ধ এবং তাদের নিজস্ব সামাজিক প্রথা অনুযায়ী ক্রস-কাজিন বিবাহকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাঙালি সমাজে (বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে) কাজিন বিবাহের নিয়মাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    তৃতীয়ত, উৎসব ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গারোদের প্রধান সামাজিক-ধর্মীয় উৎসব হলো শস্যদেবতা 'সালজং'-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উদযাপিত 'ওয়ানগালা'। বাঙালির সার্বজনীন উৎসব যেমন পহেলা বৈশাখ বা নবান্ন হলেও ওয়ানগালার নিজস্ব নৃত্য, গান ও রীতিনীতি বাঙালি সংস্কৃতি থেকে স্বতন্ত্র।

    সুতরাং, পরিবার ব্যবস্থা, সম্পত্তির উত্তরাধিকার ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক থেকে গারো জীবনধারার সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মৌলিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন