কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
রতন ও সোহাগ দুই বন্ধু। তারা পেঁয়াজ, সরিষা ও আলু বীজ উৎপাদন করতে চান। প্রথম বছর তারা বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদন করতে ব্যর্থ হন। কারণ এ ব্যাপারে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা ছিল। না। এইজন্য তারা একজন কৃষি অফিসারের নিকট পরামর্শের জন্য গেলেন। কৃষি অফিসার তাদের রোগিং ও আন্তঃপরিচর্যাসহ আরও কিছু। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেন। পরামর্শ অনুযায়ী তারা বীজ উৎপাদন করে লাভবান হলেন।
- ক)(1)
রোগিং কী?
- খ)(2)
কৃত্রিম প্রজনন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
কী কী পদক্ষেপ নিলে প্রথম বছর রতন ও সোহাগ বীজ। উৎপাদনে সক্ষম হতে পারত?
- ঘ)(4)
রতন ও সোহাগের উদ্যোগটি অধিক ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারে- উক্তিটির সপক্ষে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বীজ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে চাষ করা ফসলের জমি থেকে কাঙ্ক্ষিত জাতের উদ্ভিদ ছাড়া অন্য জাতের উদ্ভিদ বা রোগাক্রান্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদ তুলে ফেলে দেওয়াকে রোগিং (Rouging) বা বাছাইকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক নিয়মে যৌন মিলনের সাহায্য ছাড়াই কৃত্রিম উপায়ে পুরুষ প্রাণীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে স্ত্রী প্রাণীর জননতন্ত্রে সঠিক সময়ে ও উপযুক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়ে গর্ভধারণ করানোর পদ্ধতিকে কৃত্রিম প্রজনন বলে। এর মাধ্যমে উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার করে দেশি গাভীর জাত উন্নয়ন ও দুগ্ধ উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বছর রতন ও সোহাগ বীজ উৎপাদনে সফল হতে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারত তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বীজ উৎপাদন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন: প্রথমত তাদের বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত ছিল।
২. বীজ ফসলের জমি নির্বাচন ও পৃথকীকরণ দূরত্ব: বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত মাটি নির্বাচন এবং পরপরাগায়ন রোধে নির্দিষ্ট পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক ছিল।
৩. রোগিং (বাছাইকরণ): ফুল আসার আগে, ফুল আসার সময় এবং পরিপক্বতার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ও রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা উচিত ছিল।
৪. উপযুক্ত আন্তঃপরিচর্যা ও সার-বালাই ব্যবস্থাপনা: সময়মতো সেচ, আগাছা দমন, প্রয়োজনীয় সুষম সার ও বালাইনাশক প্রয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।এসব পদক্ষেপ সময়মতো গ্রহণ করলে তারা প্রথম বছরেই বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনে সফল হতে পারত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রতন ও সোহাগের উদ্যোগটি অধিক ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। নিচে এর সপক্ষে মতামত উপস্থাপন করা হলো:
১. উন্নত ও বিশুদ্ধ বীজের সরবরাহ: ভালো বীজ মানেই ভালো ফসল। রতন ও সোহাগ যদি পেঁয়াজ, সরিষা ও আলুর বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদন করেন, তবে স্থানীয় কৃষকরা সহজেই গুণগত মানসম্পন্ন বীজ পাবেন।
২. উচ্চ ফলন নিশ্চিতকরণ: মানসম্মত ও রোগমুক্ত বীজ ব্যবহারের ফলে ফসলের উৎপাদন ১৫-২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক খাদ্য ও ফসল উৎপাদন বাড়ায়।
৩. রোগবালাইয়ের প্রকোপ হ্রাস: রোগিং ও যথাযথ পরিচর্যাপ্রাপ্ত বীজে বীজবাহিত রোগের বিস্তার কম থাকে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয় না।
৪. অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রেরণা: তাদের এই বাণিজ্যিক বীজ উৎপাদন উদ্যোগ দেখে অন্যান্য শিক্ষিত তরুণ ও কৃষকরাও উন্নত বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত হবে, যা দেশে বীজের ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হবে।সুতরাং, মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে রতন ও সোহাগের এই উদ্যোগটি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও