যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দ্বিকোটিক বিভাগের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে B ও C দ্বারা কী নির্দেশ করা হয়েছে- তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে D ও E দ্বারা যে আরোহকে নির্দেশ করা হয়েছে তাদের আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিকোটিক বিভাগ (Dichotomy) শব্দের অর্থ হলো কোনো জাতিকে পরস্পর বিরুদ্ধ দুটি উপজাতিতে বিভক্ত করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহমূলক লম্ফ হলো আরোহ অনুমানে জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে এবং বিশেষ সত্য থেকে সার্বিক সত্যে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমেই আরোহ তার মূল লক্ষ্য—একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করা—অর্জন করে। যদি এই লম্ফ না থাকে, তবে অনুমানে কোনো নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয় না এবং আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হয়। এ কারণে যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বা মূল বৈশিষ্ট্য বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'B' দ্বারা 'যথার্থ আরোহ' এবং 'C' দ্বারা 'অযথার্থ আরোহ' নির্দেশ করা হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় মূল আরোহ অনুমানকে (A) দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: যথার্থ আরোহ এবং অযথার্থ আরোহ।

    ১. যথার্থ আরোহ (B): যে আরোহ অনুমানে আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য বা প্রাণ অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত থাকে, তাকে যথার্থ আরোহ বলে। উদ্দীপকে B-এর অধীনে সাদৃশ্যানুমানের পাশাপাশি অন্য দুটি শাখা (বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক) বিদ্যমান, যা যথার্থ আরোহের শ্রেণিবিভাগকে নির্দেশ করে।

    ২. অযথার্থ আরোহ (C): যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে, তাকে অযথার্থ আরোহ বলে। বাহ্যত আরোহের মতো মনে হলেও এতে বিশেষ থেকে সার্বিকে গমনের সত্যিকারের উল্লম্ফন ঘটে না। উদ্দীপকে C-এর অধীনে 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' সহ অন্য প্রকারগুলো (যুক্তিযুক্তাভাসমূলক ও ঘটনা সংযোজন) রয়েছে, যা অযথার্থ আরোহেরই প্রকারভেদ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'D' দ্বারা 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং 'E' দ্বারা 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' নির্দেশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে গভীর আন্তঃসম্পর্ক (সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য) বিদ্যমান:

    ১. সাদৃশ্য:
    ক) উভয়ই যথার্থ আরোহের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ উভয়ের মধ্যেই আরোহের প্রাণ 'আরোহমূলক লম্ফ' বিদ্যমান।
    খ) উভয় প্রক্রিয়াই কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করে।
    গ) উভয় আরোহই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর গভীরভাবে আস্থাশীল।

    ২. বৈসাদৃশ্য:
    ক) বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির পাশাপাশি কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে; কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ সম্পর্কের সন্ধান না করে কেবল অবাধ বা অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।
    খ) বৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তের অনুপস্থিতি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল অভিজ্ঞতায় বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত না পাওয়ার ওপর নির্ভর করে।
    গ) বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত; কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য, কারণ একটিমাত্র বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত পেলেই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

    পরিশেষে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রাথমিক ভিত্তি বা ধাপ। অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাধারণ অভিজ্ঞতালব্ধ সত্যই পরবর্তীকালে কার্যকারণ সম্পর্কের অনুসন্ধানের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক আরোহের নিশ্চিত তত্ত্বে রূপ লাভ করে। এভাবে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন