সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?
- খ)(2)
প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানের ক্ষেত্রে কোন উপাদানকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উক্ত উপাদানটিকে আধুনিক সভ্যতার মূলভিত্তি বলা হয়'- তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? যুক্তিসহ আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলায় অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রত্নতত্ত্ব হলো অতীতের মানব সমাজের জীবনপ্রণালী, সংস্কৃতি ও ইতিহাস পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে তাদের ব্যবহৃত বস্তুগত নিদর্শনাবলি (যেমন—হাতিয়ার, তৈজসপত্র, জীবাশ্ম, স্থাপত্য ইত্যাদি) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খনন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধ্যয়ন করার বিজ্ঞান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানব সংস্কৃতির বিবর্তনের ধারা হিসেবে 'লৌহ যুগ'-কে নির্দেশ করছে।
সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের বিকাশের ধারায় লৌহ যুগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উদ্দীপকে প্রদর্শিত চারটি বৈশিষ্ট্য—নগরায়ণ ও শিল্পায়নের বিকাশ, বৈজ্ঞানিক চিন্তা-চেতনার উন্মেষ, জাতীয় আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই কমে আসা—মূলত লৌহ যুগের উত্তরকালীন পর্যায় তথা আধুনিক শিল্প সমাজের আগমনী বার্তার প্রতিফলন।
লৌহ যুগের সূচনার মাধ্যমেই মানুষ শক্ত ধাতুর ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে, যা কৃষিতে বিপ্লব আনে এবং পরবর্তীতে শিল্পবিপ্লব ও নগরায়ণের পথ উন্মোচন করে। বিজ্ঞানভিত্তিক ধ্যান-ধারণা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ধারাও এই যুগ থেকেই বেগবান হয়। তাই প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানটি লৌহ যুগকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, 'উক্ত উপাদানটিকে আধুনিক সভ্যতার মূলভিত্তি বলা হয়'—আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় লৌহ যুগের অবদান অনস্বীকার্য। লৌহ যুগের আবিষ্কার ও ব্যবহার পূর্ববর্তী প্রস্তর যুগ এবং ব্রোঞ্জ যুগের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মানবসভ্যতাকে গতিশীল করে তোলে।
প্রথমত, লোহার তৈরি লাঙল, কুঠার ও কাস্তে কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে উদ্বৃত্ত উৎপাদন নিশ্চিত করে। এর ফলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি রূপ নেয় বাণিজ্যভিত্তিক অর্থনীতিতে।
দ্বিতীয়ত, লোহা দিয়ে মজবুত যন্ত্রপাতি, সেতু, জাহাজ ও পরিবহন ব্যবস্থা তৈরির ফলে বৃহৎ নগরায়ণ ও আধুনিক শিল্পকারখানার ভিত্তি স্থাপিত হয়।
তৃতীয়ত, এ যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত চিন্তার প্রসার ঘটে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ঘটিয়ে মৃত্যুহার হ্রাসে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সুতরাং, আধুনিক সভ্যতার যাবতীয় অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লোহার বহুমুখী ব্যবহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, লৌহ যুগই হলো আধুনিক সভ্যতার মূলভিত্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও