পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
অপারেশন সার্চলাইট কী?
- খ)(2)
যৌথবাহিনী বলতে কী বোঝো?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বর্ণিত সরকারের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও নৃশংস সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত বাহিনীকে 'যৌথবাহিনী' বলা হয়।
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। ভারতীয় বাহিনীর জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা যৌথবাহিনীর প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী পর্যুদস্ত হয় এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা '?' চিহ্নিত স্থানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার অর্থাৎ 'মুজিবনগর সরকার' বা অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে নেতৃত্ব দেয়।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া গ্রামে (বর্তমান মুজিবনগর) এই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। এর কাঠামো নিম্নরূপ ছিল:
১. রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন)।
২. উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন)।
৩. প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।
৪. অর্থমন্ত্রী: এম. মনসুর আলী।
৫. স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান।
৬. পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।এছাড়াও জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করে এই সরকারের অধীনে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সামরিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপকে নির্দেশিত মুজিবনগর সরকারের অবদান ছিল অপরিসীম ও অনস্বীকার্য।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে একটি কেন্দ্রীয় ও আইনসম্মত নেতৃত্বের চরম প্রয়োজন দেখা দেয়। মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এই সরকারের প্রধান প্রধান অবদান নিচে আলোচনা করা হলো:
১. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন ও সাংবিধানিক বৈধতা: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিকে যৌক্তিক করে তোলে।
২. যুদ্ধ পরিচালনা ও সমন্বয়: মুজিবনগর সরকার ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধকে বিন্যস্ত করে সামরিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী (যেমন- মুক্তিবাহিনী, গেরিলা দল) গঠন ও তাদের অস্ত্র-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।
৩. কূটনৈতিক সাফল্য ও আন্তর্জাতিক জনমত: তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে এই সরকার বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানের বর্বরতা তুলে ধরে এবং আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ দূত প্রেরণ করে। ভারতের সাথে মৈত্রী চুক্তি ও সহায়তা সমন্বয় এই সরকারের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ।
৪. শরণার্থী ব্যবস্থাপনা: পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এক কোটি শরণার্থীর খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিতে এই সরকার কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, মুজিবনগর সরকারের দৃঢ়, বিচক্ষণ ও সুপরিকল্পিত নেতৃত্বের কারণেই দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও