পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব শিবলী সর্বদা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন। তিনি সকল শিক্ষার্থীর সাথে একই রকম আচরণ করেন। কোনো কাজকেই তিনি ছোট মনে করেন না। সময়ের কাজ সময়ে করা তার অভ্যাস। অন্যদিকে জনাব সিরাজ অবৈধ ব্যবসা করে রাতারাতি বড়লোক হয়েছেন। শ্রমিকদের তিনি নির্দয়ভাবে খাটান। গরীব, অসহায় কেউই তার কাছে সাহায্য চেয়ে পান না।
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
স্বাধীনতার ২টি রক্ষাকবচের বর্ণনা দাও।
- গ)(3)
জনাব সিরাজের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধের কোন উপাদানগুলো অনুপস্থিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব শিবলীকে কি মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ বলা যায়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব চিন্তা, ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিশ্বাস মানুষের সামগ্রিক আচরণ ও কার্যাবলিকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে, সেগুলোর সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীনতার ২টি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ নিচে দেওয়া হলো:
১. আইনের শাসন: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করে এবং নাগরিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
২. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করা সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব সিরাজের আচরণে সামাজিক মূল্যবোধের সততা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সহমর্মিতা ও পরোপকারের মতো উপাদানগুলো অনুপস্থিত।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো এমন কতগুলো শিষ্টাচার ও নৈতিক মানদণ্ড যা সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায় ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখে। এর অন্যতম উপাদান হলো সততা, শ্রমের মর্যাদা এবং দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সিরাজ অবৈধ উপায়ে ব্যবসা করে ধনী হয়েছেন, যা সততা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। তিনি শ্রমিকদের নির্দয়ভাবে খাটান, যা শ্রমের মর্যাদা ও মানবিকতার অবমাননা। এছাড়াও দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সাহায্য না করার মাধ্যমে তাঁর মধ্যে সহমর্মিতা ও পরোপকারী মনোভাবের স্পষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং, তাঁর মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো অনুপস্থিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, জনাব শিবলীকে অবশ্যই একজন মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ বলা যায়।
মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সমতা, ন্যায়পরায়ণতা, শ্রমের মর্যাদা অনুধাবন, পরকল্যাণকামিতা এবং নিয়মানুবর্তিতা প্রদর্শন করা। সমাজে যারা সততা ও নীতি-আদর্শ মেনে চলেন এবং অন্যের কল্যাণসাধন করেন, তারাই মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ।
উদ্দীপকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব শিবলীর কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা ভাবেন। তিনি সকল শিক্ষার্থীর প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ (সাম্য ও ন্যায়বিচার) করেন। কোনো কাজকেই তিনি ছোট মনে করেন না, যা 'শ্রমের মর্যাদা' প্রদানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তদুপরি, সময়ের কাজ সময়ে করার অভ্যাস তাঁর 'নিয়মানুবর্তিতা' ও দায়িত্বশীলতাকে প্রকাশ করে। এই প্রতিটি গুণই উচ্চমানের সামাজিক ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রতিফলন।
অতএব, জনাব শিবলীর আচরণ ও জীবনধারায় নৈতিকতা, সমতা ও দায়িত্বশীলতার সুস্পষ্ট প্রকাশ থাকায় তাঁকে নিঃসন্দেহে একজন পূর্ণাঙ্গ মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও