পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মৌলিক অধিকার নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য। একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় কিংবা সংবিধান স্থগিত ও সংশোধন করা ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য খুবই কম। অনেক মৌলিক অধিকারই জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারে স্থান পেয়েছে।
- ক)(1)
রাজনৈতিক সাম্য কী?
- খ)(2)
আইনের ২টি উৎস সম্পর্কে বর্ণনা করো।
- গ)(3)
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? সেগুলি কী কী?
- ঘ)(4)
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের গুরুত্ব নির্ণয় করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার লাভ করাকে (যেমন: ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের সুযোগ) রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রথা (Custom): সুদীর্ঘকাল ধরে সমাজে প্রচলিত ও অনুসৃত রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও অভ্যাস যখন রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও বাস্তবায়িত হয়, তখন তা আইনে পরিণত হয়। যেমন—যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক আইনের একটি বড় অংশ প্রথাভিত্তিক।
২. ধর্ম (Religion): প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মই ছিল আইনের প্রধান উৎস। বর্তমানেও পারিবারিক আইন, বিবাহ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ধর্মীয় বিধিবিধান রাষ্ট্রের আইনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের কারণে স্বাভাবিকভাবে যে অধিকারগুলো বর্তায়, সেগুলো হলো মানবাধিকার। অন্যদিকে, মানবাধিকারগুলোর মধ্যে যেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দেশের সংবিধান স্বীকৃতি দেয় ও সুরক্ষা প্রদান করে, সেগুলো মৌলিক অধিকার।
২. ভৌগোলিক পরিধি: মানবাধিকার সর্বজনীন ও বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য; ভৌগোলিক সীমানা বা জাতিগত পরিচয়ে এটি সীমাবদ্ধ নয়। পক্ষান্তরে, মৌলিক অধিকার একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নাগরিক বা বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য।
৩. বলবৎযোগ্যতা: মৌলিক অধিকার দেশের সংবিধান ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত দ্বারা সরাসরি বলবৎযোগ্য ও আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত। কিন্তু সার্বিক মানবাধিকার আন্তর্জাতিক সনদভুক্ত হলেও তা সব সময় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ আদালতে সরাসরি বলবৎযোগ্য নাও হতে পারে, যদি না তা জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভই হলো নাগরিক স্বাধীনতা এবং অধিকারের স্বীকৃতি। এ কারণে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ব্যক্তিসত্তার পূর্ণ বিকাশ: মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত হলে নাগরিকেরা চিন্তা, মতপ্রকাশ ও পেশাগত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে, যা ব্যক্তিসত্তার সুষ্ঠু বিকাশে সহায়ক।
২. সুশাসন ও সরকারের জবাবদিহিতা: মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিকরা বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হতে পারে। ফলে সরকার স্বেচ্ছাচারী বা স্বৈরাচারী হতে পারে না এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি সমাজে বৈষম্য হ্রাস করে এবং সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করে।
৪. গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: বাকস্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছাড়া বহুদলীয় গণতন্ত্র অচল। মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের বলবৎকরণই গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দান করে।
পরিশেষে বলা যায়, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কার্যকর হতে পারে না; এগুলো গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও