‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনি নিজের প্রয়োজনমত মন্ত্রী নিয়োগ দেন। রাষ্ট্রপতিকে তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। তিনি তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো মন্ত্রীকে অপসারণ করতে পারেন।

  1. ক)

    গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    সমালোচনাসহ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত যুক্তরাষ্ট্রে কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? এ ধরনের সরকার ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির স্বৈরাচারী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ অর্থে গণতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। অধ্যাপক ডাইসির মতে, "গণতন্ত্র এমন এক সরকার যেখানে জনগণের একটি বৃহৎ অংশ শাসনকাজে অংশ নেয়।"

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুযায়ী সরকারের তিনটি বিভাগ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ একে অপর থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। মন্টেস্কু এই নীতির প্রধান প্রবক্তা।

    সমালোচনা: সম্পূর্ণ বা চরম ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বাস্তবসম্মত বা কাম্য নয়। কারণ সরকারের অঙ্গগুলো একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার অভাব দেখা দেয়, ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আধুনিক রাষ্ট্রে পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণের চেয়ে 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি' (Checks and Balances) অধিক গ্রহণযোগ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে না এবং রাষ্ট্রপতিই প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী হন, তাকে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার বলে।

    এ ধরনের সরকার ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. সরকারের স্থায়িত্ব: নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় এ সরকারে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সহজে সরকার পতনের ঝুঁকি থাকে না, ফলে শাসনব্যবস্থায় স্থায়িত্ব বজায় থাকে।
    ২. দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ: জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি একক নেতৃত্বে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
    ৩. যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ: রাষ্ট্রপতি আইনসভার বাইরের যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিজের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, যা দক্ষ প্রশাসনে সহায়ক।
    ৪. দলীয় মনোভাবের প্রভাব কম: আইনসভার ওপর নির্ভরশীল না থাকায় আইন প্রণয়ন ও শাসন পরিচালনায় অযাচিত দলীয় সংকীর্ণতার প্রভাব কম থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির স্বৈরাচারী বা স্বেচ্ছাচারী হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে।

    এ সরকারে রাষ্ট্রপতি আইনসভার কাছে তাঁর কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। তিনি একক কর্তৃত্বে মন্ত্রী নিয়োগ ও অপসারণ করতে পারেন এবং দেশের সর্বময় শাসনক্ষমতা তাঁর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। আইনসভা অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে পদচ্যুত করতে পারে না। ফলে রাষ্ট্রপতির ওপর শাসন বিভাগীয় কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাঁর স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

    তবে সংবিধানে 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' (Checks and Balances) ব্যবস্থা এবং 'ইমপিচমেন্ট' বা অভিশংসনের বিধান থাকলে এ সম্ভাবনা বহুলাংশে হ্রাস পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে আইনসভা ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, তাত্ত্বিকভাবে ও কাঠামোগত জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির স্বৈরাচারী হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকলেও, কার্যকর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় থাকলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন