ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
চাকরিজীবী আফিফা সম্প্রতি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। যার নাম রাখা হয় আয়েশা। আয়েশার জন্মের পর সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ছয় মাস পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ ছাড়া শিশুকে অন্য কোনো খাবার দিতে মা-বাবাকে নিরুৎসাহিত করেন। ডাক্তারের পরামর্শ বিবেচনা করে আফিফা যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর ছয় মাসের ছুটির জন্য আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ কেবল এক মাসের ছুটি মঞ্জুর করে। এতে আফিফা সন্তুষ্ট হতে না পেরে চাকরি ত্যাগ করেন এবং আয়েশাকে সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালনে মনোনিবেশ করেন। আফিফার স্বামী রায়হান একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে হাসি মুখে বাসায় ফিরেন। খোঁজ-খবর নেন আফিফার শরীরের, তার সাথে উত্তম ব্যবহার করেন এবং কোনো প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি দৃষ্টিগোচর হলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। তার এরুপ ব্যবহারে আফিফা নিজেকে ধন্য মনে করেন এবং গৌরব বোধ করেন।
- ক)(1)
ইসলামি পরিবাব কী?
- খ)(2)
‘পিতা-মাতাই জান্নাত এবং পিতা-মাতাই তোমার জাহান্নাম'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আফিফার কর্মকান্ড তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবার গঠনে রায়হানের আচরণের প্রভাব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি শরিয়তের বিধান ও নীতিমালার আলোকে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং নিকটাত্মীয়দের সমন্বয়ে গঠিত বৈধ ও সুশৃঙ্খল সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ইসলামি পরিবার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'পিতা-মাতাই জান্নাত এবং পিতা-মাতাই তোমার জাহান্নাম'—হাদিসের এই বাণীর অর্থ হলো পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ওপর সন্তানের জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ভর করে।
ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ। পিতা-মাতার আনুগত্য করা, তাদের সেবা-যত্ন করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করা যায়। পক্ষান্তরে, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, তাদের মনে কষ্ট দেওয়া বা তাদের অধিকার খর্ব করা কবিরা গুনাহ, যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। তাই তাঁদের সন্তুষ্টিতেই রয়েছে জান্নাত এবং অসন্তুষ্টিতেই রয়েছে জাহান্নাম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আফিফার কর্মকাণ্ডে ইসলামি শরিয়তে বর্ণিত সন্তানের অধিকার রক্ষা ও মাতৃদুগ্ধ দানের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নবজাতক শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের বিধান নির্দেশ করে বলেছেন, "মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু'বছর দুধ পান করাবে, যদি তারা দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)। ইসলামে সন্তানের সুষ্ঠু শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পিতা-মাতার ওপর একটি অপরিহার্য দায়িত্ব ও ইবাদতস্বরূপ।
উদ্দীপকে আফিফা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কন্যা শিশু আয়েশার ছয় মাস পর্যন্ত কেবল মাতৃদুগ্ধ পানের আবশ্যকতা নিশ্চিত করতে চাকরি ত্যাগ করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মায়ের দুধ সন্তানের জন্মগত অধিকার, যা সন্তানের সুস্থ জীবন গঠনের জন্য অপরিহার্য। আফিফা পার্থিব ক্যারিয়ারের চেয়ে সন্তানের মৌলিক অধিকার ও সুষম লালন-পালনকে প্রাধান্য দিয়ে ইসলামের মাতৃত্বের মহান দায়িত্ব পালন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবার গঠনে রায়হানের মতো আদর্শ স্বামীর আচরণ অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ইসলামে পারিবারিক শান্তির জন্য স্ত্রীর প্রতি স্বামীর উত্তম আচরণ, ক্ষমাশীলতা ও সহানুভূতিশীল মনোভাবের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম" (তিরমিজি)। একটি পরিবারের সুখ ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে পারস্পরিক ভালোবাসা, সমঝোতা ও ক্ষমার মনোভাবের ওপর।
উদ্দীপকে রায়হান কর্মব্যস্ত দিনের শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে আসেন, স্ত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং স্ত্রীর কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে মানুষের মধ্যে ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, তাই পরিবারে ছোটখাটো বিষয়ে বিবাদ না করে ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা উচিত। রায়হানের এহেন প্রশংসনীয় আচরণের ফলে আফিফা নিজেকে ধন্য মনে করেন এবং তাদের দাম্পত্য জীবনে মানসিক প্রশান্তি ও গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, পারিবারিক জীবনে স্বামীর এ ধরনের সহানুভূতিশীল ও ক্ষমাশীল মনোভাবই একটি পরিবারকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতমুক্ত, প্রেমময় ও আদর্শ ইসলামি পরিবারে রূপান্তর করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও