ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আল-আমিন জন্মগতভাবে রোগাক্রান্ত, শারিরীক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তাই সমাজের বিভিন্ন লোক বিভিন্ন সময় তাকে সাহায্য সহযোগিতা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রভাষক আব্দুল জলিল বলেন, পরিবার ও সমাজে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো সকল ক্ষেত্রে তাদেরও সমান অধিকার আছে। বরং অন্যদের চেয়ে বেশি এবং বিশেষ কিছু অধিকার তাদের প্রাপ্য।

  1. ক)

    كَسْبُ الْحَلَالِ )কাসবুল হালাল) শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন"-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আল-আমিনের প্রতি সমাজের মানুষের সাহায্য সহযোগিতার কারণ কী? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের অধিকারসমূহ তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কাসবুল হালাল' (كَسْبُ الْحَلَالِ) শব্দের অর্থ হলো বৈধ বা হালাল জীবিকা উপার্জন করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত বাক্যটি সূরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতের অংশ। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈধতা এবং সুদের অবৈধতা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন।

    ব্যবসা হলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সততা ও শ্রমের সমন্বয়ে পণ্য কেনাবেচা করে লাভ বা লোকসান ভাগাভাগি করার প্রক্রিয়া, যা সমাজের অর্থনৈতিক সচলতা ও কল্যাণ বয়ে আনে। পক্ষান্তরে সুদ হলো শ্রমহীন উপায়ে ঋণগ্রহীতার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা, যা শোষণমূলক ও সমাজের দারিদ্র্য বৃদ্ধিকারী। তাই আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আল-আমিনের প্রতি সমাজের মানুষের সাহায্য-সহযোগিতার প্রধান কারণ হলো সে একজন প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ও অসহায় মানুষ, যাদের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রদর্শন ইসলামের একটি বিশেষ মানবিক বিধান।

    ইসলামে শারীরিক, মানসিক কিংবা ইন্দ্রিয়গত ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম সকল মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মর্যাদা দেয় এবং সমাজে দুর্বল, অক্ষম ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সেবা-যত্ন করা এবং তাদের সহায়তা করাকে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুর্বলদের প্রতি সদয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    উদ্দীপকের আল-আমিন জন্মগতভাবে রোগাক্রান্ত এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজের দৈনন্দিন প্রয়োজন বা জীবিকা নিজে মেটাতে অক্ষম। এ কারণে মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকেই সমাজের মানুষ বিভিন্ন সময় তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকারসমূহ ইসলামি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রভাষক আব্দুল জলিলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবার ও সমাজে তাদের বিশেষ অধিকার রয়েছে।

    ইসলামে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রদত্ত প্রধান প্রধান অধিকারসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. বাঁচার অধিকার ও মৌলিক চাহিদা পূরণ: সুস্থ মানুষের মতো প্রতিবন্ধীদেরও বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাদের অন্য-বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রথমে পরিবার এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।

    ২. সম্মান ও মর্যাদার অধিকার: প্রতিবন্ধীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা অবহেলা করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে মানুষকে উপহাস করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্ধ সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে মদিনার দায়িত্ব পর্যন্ত প্রদান করেছিলেন।

    ৩. শিক্ষার অধিকার: প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী তাদের উপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

    ৪. বিশেষ সহানুভূতি ও অগ্রাধিকার: শারীরিক অক্ষমতার কারণে তারা স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে বেশি সহানুভূতি ও সহযোগিতার দাবিদার। বিভিন্ন সেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    ৫. সম্পদের উত্তরাধিকার: ইসলামি শরিয়তে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধিতার কারণে কাউকে উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা যায় না; তারা স্বাভাবিক সন্তানের মতোই সম্পত্তিতে তাদের পূর্ণ হিস্যা লাভ করবে।

    পরিশেষে বলা যায়, প্রতিবন্ধীরা সমাজের করুণার পাত্র নয়, বরং তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করা ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন