ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব জাহিদ ও মারুফ দু বন্ধু। জাহিদ কুরআন এবং হাদিসে গভীর আম লাভ করেন এবং একাধারে ৫০ বছর অধ্যাপনা করেন। ক্ষমতাসীন 'ক' এর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার কারণে তাঁকে ৭০টি বেত্রাঘাত করা হয়। তিনি কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনিনি। অন্যদিকে, জনাব মারুফ ব্যবসা করে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি তাঁর জীবনের সকল বিষয়ে আল-কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত মাসলা-মাসায়েলের তোয়াক্কা করেন নি।
- ক)(1)
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল কত হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
শয়তানের নিকট হাজার আবিদের চেয়েও একজন ফকিহ বেশি শক্তিশালী। "ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব জাহিদের সাথে কোন বিখ্যাত মনীষীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব মারুফের কর্মকাণ্ডের শেষ পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) ১৬৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "শয়তানের বিরুদ্ধে একজন ফকিহ (ইসলামি আইনজ্ঞ/বিজ্ঞ আলিম) হাজার জন আবিদের (সাধারণ ইবাদতকারী) চেয়েও বেশি শক্তিশালী বা কঠোর।"
ব্যাখ্যা: আবিদ ব্যক্তি ধর্মীয় জ্ঞান কম থাকার কারণে শয়তানের সূক্ষ্ম ধোঁকা, কুসংস্কার ও বিভ্রান্তিতে সহজে পতিত হতে পারে। পক্ষান্তরে, একজন ফকিহ গভীর প্রজ্ঞা ও ইলমের অধিকারী হওয়ায় শয়তানের প্ররোচনা, বিদআত ও বিভ্রান্তি সহজেই শনাক্ত করতে পারেন এবং নিজে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি গোটা উম্মতকে পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করেন। এজন্যই ফকিহের গুরুত্ব আবিদের চেয়ে অনেক বেশি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব জাহিদের সাথে বিখ্যাত ইমাম ও হাদিস বিশারদ ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)-এর গভীর মিল রয়েছে।
ইমাম মালিক (রহ.) মদিনার বিখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মসজিদে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইলমে হাদিস ও ফিকহের অধ্যাপনা এবং ফতোয়া প্রদান করেন। তাঁর যুগে আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের শাসনামলে জবরদস্তিমূলক তালাকের বিরুদ্ধে (অর্থাৎ জোরপূর্বক নেওয়া বায়আত বা শপথের অসারতা নিয়ে) ফতোয়া দেওয়ার কারণে মদিনার গভর্নর জাফর ইবনে সুলাইমান তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁকে প্রায় ৭০টি চাবুক বা বেত্রাঘাত করা হয়। তথাপি তিনি সত্য প্রকাশে কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেননি।
উদ্দীপকের জাহিদও দীর্ঘ ৫০ বছর অধ্যাপনা করেছেন এবং ক্ষমতাসীন শাসকের বিরুদ্ধে সত্য ফতোয়া দেওয়ায় ৭০টি বেত্রাঘাত সহ্য করেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং, তাঁর সাথে ঐতিহাসিক মনীষী ইমাম মালিক (রহ.)-এর পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব মারুফ প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনের সকল বিষয়ে আল-কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত মাসলা-মাসায়েল তথা শরিয়তের বিধান অমান্য করেছেন। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর কর্মকাণ্ডের শেষ পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।
১. আখিরাতে কঠিন শাস্তি: কুরআন ও সুন্নাহর বিধান উপেক্ষা করে অর্জিত সম্পদ ও জীবনাচার মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলের আদেশ মেনে নিতে এবং তাঁর নিষেধকৃত বিষয় পরিহার করতে। মারুফের এই স্বেচ্ছাচারিতা আল্লাহর নাফরমানির শামিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি পরকালীন লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের শাস্তি।
২. সম্পদ অপবিত্র ও অর্থহীন হওয়া: যেসব সম্পদে শরিয়তের বিধিবিধান (যেমন: হালাল-হারামের তফাত, জাকাত, অন্যের হক) রক্ষা করা হয় না, তা বরকতহীন হয়ে যায়। কিয়ামতের দিন সেই সঞ্চিত সম্পদই তার জন্য আজাবের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
৩. দুনিয়াতে নৈতিক ও আত্মিক বিপর্যয়: শরিয়তহীন জীবন মানসিক শান্তি ও স্থায়ী কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। মানুষের বাহ্যিক প্রাচুর্য থাকলেও নৈতিক অবক্ষয় ঘটে এবং সে সমাজেও নিন্দিত হয়।অতএব, জনাব মারুফের এই স্বেচ্ছাচারী আচরণ তাঁকে ইহকালে আত্মিক অশান্তি ও পরকালে আল্লাহর অসন্তুষ্টি এবং চিরস্থায়ী শাস্তির দিকে ধাবিত করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও