যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
বর্ষ-উন্নয়ন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অহনা ও রোজীর মধ্যে মনোমালিন্য হয় । কলেজের যুক্তিবিদ্যার শিক্ষক নাসরীন নাহার বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই বান্ধবীকে মিলিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে অহনা এবং পরে রোজীর সাথে কথা বলেন। নাসরীন নাহারের মধ্যস্থতায় দুই বান্ধবীর মধ্যে মনোমালিন্যের অবসান হয়। অতঃপর অহনা ও রোজী একত্রে বসে ক্লাস করা শুরু করে।
- ক)(1)
সহানুমান কী?
- খ)(2)
সহানুমানের সিদ্ধান্ত কেন আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপ্য হয় না? ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাসরীন নাহারের ভূমিকা সহানুমানের কোন পদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
অহনা, রোজী ও নাসরীন নাহারের তুলনাযোগ্য পদের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে সহানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমান হলো এক প্রকার অবরোহ অনুমান। অবরোহ অনুমানে আমরা সর্বদা সাধারণ সত্য থেকে বিশেষ সত্যে উপনীত হই। এখানে সিদ্ধান্তের সত্যতা আশ্রয়বাক্যের সত্যতার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই আশ্রয়বাক্যের ব্যাপকতাকে অতিক্রম করতে পারে না। যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হয়নি, সে পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না; অন্যথায় অবৈধতার নিয়মভঙ্গজনিত অনুপপত্তি ঘটে। এ কারণেই সহানুমানের সিদ্ধান্ত কখনোই আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক বা ব্যাপ্য হতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাসরীন নাহারের ভূমিকা সহানুমানের মধ্যপদ বা হেতুপদের (Middle Term) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সহানুমানে যে পদ উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে, তাকে মধ্যপদ বলে। মধ্যপদের মূল কাজ হলো প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক বা যোগসূত্র স্থাপন করে দেওয়া। মধ্যপদের মধ্যস্থতা ছাড়া সহানুমানের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অহনা ও রোজীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে শিক্ষক নাসরীন নাহার উভয়ের সাথে কথা বলে মধ্যস্থতা করেন এবং তাদের মধ্যে পুনরায় মিল ঘটিয়ে দেন। ফলে অহনা ও রোজী আবার একত্রে বসে ক্লাস করা শুরু করে। সহানুমানে মধ্যপদ যেমন প্রধান পদ ও অপ্রধান পদকে যুক্ত করে নিজে সিদ্ধান্তে অদৃশ্য থাকে, তেমনি নাসরীন নাহারও দুই বান্ধবীর মধ্যে সংযোগ বা মিলন ঘটিয়ে দিয়েছেন। তাই তাঁর ভূমিকা সহানুমানের মধ্যপদের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অহনা, রোজী ও নাসরীন নাহার যথাক্রমে সহানুমানের প্রধান পদ (Major Term), অপ্রধান পদ (Minor Term) এবং মধ্যপদকে (Middle Term) নির্দেশ করে। নিচে এ পদগুলোর পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো:
সহানুমানে তিনটি পদ থাকে:
১. প্রধান পদ: সিদ্ধান্তের বিধেয় পদটিকে প্রধান পদ বলে (এখানে রূপক অর্থে অহনা)।
২. অপ্রধান পদ: সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদটিকে অপ্রধান পদ বলে (এখানে রূপক অর্থে রোজী)।
৩. মধ্যপদ: উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থেকে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী পদটি হলো মধ্যপদ (এখানে নাসরীন নাহার)।এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও সুনির্দিষ্ট:
ক. মধ্যস্থতা: প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে নিজস্ব কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকে না। মধ্যপদ প্রথমে প্রধান পদের সাথে এবং পরে অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। উদ্দীপকে নাসরীন নাহার যেমন প্রথমে অহনা এবং পরে রোজীর সাথে কথা বলে তাদের মধ্যকার দূরত্বের অবসান ঘটিয়েছেন, সহানুমানেও মধ্যপদ দুটি আশ্রয়বাক্যে পৃথকভাবে উপস্থিত থেকে অন্য দুটি পদের সংযোগ ঘটায়।
খ. সিদ্ধান্তে উপস্থিতি: মধ্যপদ উভয় পদের মধ্যে মিল বা অমিল নিশ্চিত করে সিদ্ধান্তে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। সিদ্ধান্তে কেবল অপ্রধান পদ (উদ্দেশ্য) ও প্রধান পদ (বিধেয়) একত্রে যুক্ত হয়। উদ্দীপকেও নাসরীন নাহারের মধ্যস্থতার পর অহনা ও রোজী একত্রে ক্লাসে বসা শুরু করে।অতএব, মধ্যপদের মধ্যস্থতা ব্যতিরেকে প্রধান ও অপ্রধান পদের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে না। তাই সহানুমানের এই তিনটি পদের আন্তঃসম্পর্ক অনুমান প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও