বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দিল্লির সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর কন্যা রাজিয়া সুলতানাকে প্রাণাধিক ভালোবাসতেন। কোনো প্রয়োজনে যখন সুলতান ইলতুৎমিশকে রাজধানী ছাড়তে হতো, তিনি তখন তার কন্যা দক্ষ সেনাপতি ও প্রশাসক রাজিয়াকে শাসনভার বুঝিয়ে দিয়ে যেতেন। পুত্র বর্তমান থাকা সত্ত্বেও সুলতান তার কন্যা রাজিয়াকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেন। এতে রাজিয়ার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং বহিরাগত শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে রাজিয়াকে হত্যা করে।
- ক)(1)
পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
- খ)(2)
“তুমিও আমাকে বিচার করতে বসলে?" কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? সংক্ষেপে বর্ণণা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুলতানের ছেলেদের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“সুলতানা রাজিয়া ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণাম একসূত্রে গাঁথা।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণপূর্বক তোমার মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩,০০০ (তিন হাজার)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর স্ত্রী লুৎফুন্নেসার অনুযোগপূর্ণ মন্তব্যের উত্তরে বেদনার্ত হয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।
চারপাশের চরম বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে মানসিক ক্লান্তিতে নবাব যখন ঘরে ফেরেন, তখন লুৎফুন্নেসা প্রাসাদের অনিশ্চয়তা ও সংকট নিয়ে কথা তোলেন। দরবারের অমাত্য ও সেনাপতিদের ক্রমাগত অবিচার ও বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের মন জর্জরিত ছিল। তাই প্রিয়তমা স্ত্রীর সাধারণ ক্ষোভ বা অনুযোগও তাঁকে ব্যথিত করে এবং তিনি আক্ষেপ করে বলে ওঠেন— “তুমিও আমাকে বিচার করতে বসলে?”
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুলতানের ছেলেদের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম ও শওকতজঙ্গের মতো উচ্চাভিলাষী ও চক্রান্তকারী চরিত্রের মিল রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, আলীবর্দী খাঁ সিরাজউদ্দৌলাকে মসনদের যোগ্য উত্তরাধিকারী নির্বাচন করায় সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম এবং খালাতো ভাই শওকতজঙ্গ তা মেনে নিতে পারেনি। তারা ক্ষমতার লোভে সিরাজের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।
উদ্দীপকেও ইলতুৎমিশ তাঁর যোগ্য কন্যা রাজিয়া সুলতানাকে সিংহাসনে বসালে রাজিয়ার ভাইয়েরা তা সহ্য করতে পারেনি। ক্ষমতার লোভে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগত শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে রাজিয়াকে হত্যা করে। এই আত্মীয়দের ক্ষমতার মোহ, ঈর্ষা এবং বহিঃশত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে স্বজনকে ধ্বংস করার হীন মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের ভাইদের সাথে নাটকের ঘসেটি বেগম ও শওকতজঙ্গের চারিত্রিক সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সুলতানা রাজিয়া ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণাম একসূত্রে গাঁথা।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
সুলতানা রাজিয়া এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই ছিলেন যোগ্য, দেশপ্রেমিক ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, উভয়ের পতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছিল নিজেদের ঘনিষ্ঠজনদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং বিদেশি বা বহিরাগত শক্তির সাথে তাদের গোপন ষড়যন্ত্র।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশকে ইংরেজদের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মীর জাফর ও অমাত্যরা ব্যক্তিগত স্বার্থে বিদেশি ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়। ফলে পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদী বেগের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন।
অন্যদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, দক্ষ সেনাপতি ও যোগ্য শাসক হওয়া সত্ত্বেও সুলতানা রাজিয়ার ভাইয়েরা সিংহাসনের লোভে বহিরাগত শত্রুর সাথে যোগসাজশ করে রাজিয়াকে হত্যা করে।
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যোগ্য শাসক হওয়া সত্ত্বেও ঘরের শত্রুদের চক্রান্ত এবং বাইরের শত্রুর আঁতাতের কাছে তাঁদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে এবং উভয়েরই জীবনাবসান ঘটেছে নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। সুতরাং, পরিণতি ও ট্র্যাজেডির স্বরূপ বিবেচনায় তাঁদের পরিণাম নিশ্চিতভাবেই একসূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও