গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

সেতুর বয়স চার বছর। সে চোখের দিকে তাকায় না, অন্যের সাথে খেলে না, ডাকলে সাড়া দেয় না। তাকে বিশেষজ্ঞের কাছে নিলে তিনি সেতুকে স্কুলে পাঠাতে বলেন। তাঁর মতে, পরিবার ও সমাজ উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ সহযোগিতা পেলে সেতুর উন্নয়ন সম্ভব।

  1. ক)

    ব্রেইল পদ্ধতি কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রতিভাবান শিশুদের প্রতি পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সেতু কী ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত? এই সমস্যার ধরনগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বিশেষজ্ঞের মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রেইল পদ্ধতি হলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পড়ার ও লেখার জন্য ছয়টি উঁচু বিন্দুর সমন্বয়ে তৈরি একটি বিশেষ স্পর্শভিত্তিক স্পর্শমূলক লিখন ও পঠন পদ্ধতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিভাবান শিশুরা সাধারণ শিশুদের চেয়ে বুদ্ধি, সৃজনশীলতা ও বিশেষ দক্ষতায় অনেক এগিয়ে থাকে। তাদের এই বিশেষ প্রতিভার যথাযথ বিকাশ ও পরিচর্যার জন্য পরিবার ও সমাজের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার থেকে উপযুক্ত স্নেহ, স্বাধীনতা ও ইতিবাচক পরিবেশ না পেলে এবং সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ শিক্ষাক্রম বা উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা না পেলে তাদের প্রতিভার অপচয় হতে পারে, এমনকি তারা মানসিক হতাশায় ভুগতে পারে। তাই প্রতিভাবান শিশুদের মেধার সঠিক বিকাশে পরিবার ও সমাজকে সচেতনভাবে পথ তৈরি করে দিতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সেতু অটিজম বা অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) নামক নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় আক্রান্ত। চোখের দিকে না তাকানো (eye contact-এর অভাব), অন্যের সাথে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বা খেলাধুলা না করা এবং ডাকলে সাড়া না দেওয়া অটিজমের প্রধান লক্ষণ।

    অটিজমের ধরনের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রাভেদ দেখা যায়, যেমন:
    ১. মৃদু বা হালকা অটিজম (Mild Autism/Asperger's Syndrome): এতে শিশুরা স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হতে পারে এবং ভাষাগত দক্ষতা ভালো থাকে, তবে সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণে জড়তা থাকে।
    ২. মধ্যম মাত্রার অটিজম (Moderate Autism): এতে ভাষাগত যোগাযোগ ও সামাজিক আদান-প্রদানে মাঝারি ধরণের সমস্যা থাকে এবং দৈনন্দিন কাজে সহায়তার প্রয়োজন হয়।
    ৩. তীব্র বা গুরুতর অটিজম (Severe Autism): এ ক্ষেত্রে শিশুর সামাজিক যোগাযোগ একেবারেই গড়ে ওঠে না, ভাষাগত বিকাশ প্রায় অনুপস্থিত থাকে বা অত্যন্ত সীমিত হয় এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ প্রবলভাবে প্রকাশ পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিশেষজ্ঞের দেওয়া মতামত—"পরিবার ও সমাজ উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ সহযোগিতা পেলে সেতুর উন্নয়ন সম্ভব"—অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।

    অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা কোনো সাধারণ অসুস্থতায় ভোগে না, বরং তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশগত ভিন্নতা থাকে। বিশেষজ্ঞ সেতুকে স্কুলে পাঠাতে বলেছেন, কারণ বিশেষায়িত বা অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) বিদ্যালয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ, যোগাযোগের দক্ষতা এবং সহপাঠীদের সাথে মেলামেশার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

    পরিবারের ভূমিকা এক্ষেত্রে অপরিসীম। পরিবারে শিশুকে নিবিড় যত্ন, ভালোবাসা, ধৈর্য এবং স্পিচ ও অকুপেশনাল থেরাপির পরিবেশ দিতে হবে। অন্যদিকে সমাজের ভূমিকা হলো অটিস্টিক শিশুদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা, তাদের প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য বা অবহেলা না করে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা এবং উপযুক্ত শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা। তাই পরিবার ও সমাজের যৌথ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল সেতুর মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন