রসায়ন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
i. CaC2+2H2O→X+Ca(OH)2 \mathrm{CaC}{2}+2 \mathrm{H}{2} \mathrm{O} \rightarrow \mathrm{X}+\mathrm{Ca}(\mathrm{OH}){2} ii. Y←Pd,BaSO4H2X→450∘CFe নল Z \mathrm{Y} \xleftarrow[\mathrm{Pd}, \mathrm{BaSO}{4}]{\mathrm{H}_{2}} \mathrm{X} \xrightarrow[450^{\circ} \mathrm{C}]{\mathrm{Fe} \text { নল }} \mathrm{Z}
- ক)(1)
Redox বিক্রিয়া কাকে বলে
- খ)(2)
নমুনা পানির COD মান BOD অপেক্ষা বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
X ও Y গ্যাসের মিশ্রণ থেকে উপাদানদ্বয়কে কীভাবে পৃথক করা যায় তা সমীকরণসহ লেখ।
- ঘ)(4)
Y ও Z যৌগসমূহ একই রকম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া দেয় কিনা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একই সাথে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান অর্থাৎ জারণ ও বিজারণ যুগপৎভাবে ঘটে, তাকে রেডক্স (Redox) বা জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BOD (Biochemical Oxygen Demand) হলো পানিতে উপস্থিত কেবল জৈব দূষককে অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে জৈব রাসায়নিকভাবে জারিত বা বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ।
অন্যদিকে, COD (Chemical Oxygen Demand) হলো পানির সকল প্রকার জৈব ও অজৈব দূষক পদার্থকে তীব্র রাসায়নিক জারক (যেমন: ) দ্বারা সম্পূর্ণ জারিত করতে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের পরিমাণ।
যেহেতু COD প্রক্রিয়ায় পানিতে বিদ্যমান জৈব বিয়োজনযোগ্য এবং জৈব অবিয়োজনযোগ্য উভয় প্রকার পদার্থ জারিত হয়, কিন্তু BOD প্রক্রিয়ায় কেবল জৈব বিয়োজনযোগ্য দূষক জারিত হয়, তাই যেকোনো নমুনা পানির ক্ষেত্রে COD-এর মান সর্বদা BOD অপেক্ষা বেশি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিক্রিয়া অনুযায়ী, যৌগটি হলো ইথাইন () এবং যৌগটি হলো ইথিন ()।
ইথাইনের কার্বন-কার্বন ত্রিবন্ধনযুক্ত কার্বনে অম্লধর্মী হাইড্রোজেন বর্তমান, কিন্তু ইথিনে তা নেই। এই অম্লধর্মের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে এদের পৃথক করা যায়।পৃথকীকরণ পদ্ধতি:
১. অ্যামোনিয়াযুক্ত কিউপ্রাস ক্লোরাইড দ্রবণ (-যুক্ত দ্রবণ)-এর মধ্য দিয়ে ইথাইন () ও ইথিন ()-এর গ্যাসীয় মিশ্রণ চালনা করা হয়।
২. এতে কেবল ইথাইন () বিক্রিয়া করে কপার অ্যাসিটিলাইডের লাল বর্ণের অধঃক্ষেপ ফেলে, কিন্তু ইথিন () কোনো বিক্রিয়া না করে দ্রবণ থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় গ্যাস হিসেবে নির্গত হয়। এভাবে গ্যাসকে আলাদা পাত্রে সংগ্রহ করা যায়।
সমীকরণ:
৩. উৎপন্ন কপার অ্যাসিটিলাইডের অধঃক্ষেপকে ছেঁকে আলাদা করে তাতে লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড () যোগ করে উত্তপ্ত করলে পুনরায় বিশুদ্ধ ইথাইন () গ্যাস মুক্ত হয়।
সমীকরণ:
এভাবে ও যৌগের মিশ্রণ থেকে উপাদানদ্বয়কে সম্পূর্ণ পৃথক করা সম্ভব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যৌগ হলো ইথিন (অ্যালকিন, ) এবং যৌগ হলো বেনজিন (অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন, )।
ও যৌগসমূহ একই রকম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া দেয় না; এদের প্রধান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া পরস্পরের থেকে ভিন্ন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. যৌগের (ইথিন) বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া:
- ইথিনে একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন ( ও একটি দুর্বল -বন্ধন) থাকে।
- দুর্বল -ইলেকট্রনের সহজলভ্যতার কারণে এটি মূলত 'ইলেকট্রোফিলিক (ইলেকট্রনাকর্ষী) যুত বা সংযোজন বিক্রিয়া' প্রদর্শন করে।
- উদাহরণস্বরূপ, ব্রোমিন বা হাইড্রোজেন হ্যালাইডের সাথে সংযোজন বিক্রিয়া:
২. যৌগের (বেনজিন) বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া:
- বেনজিন অণুতে ছয়টি কার্বন পরমাণু জুড়ে ছয়টি -ইলেকট্রনের একটি ডিলোক্যালাইজড বা সঞ্চারণশীল সুষম ইলেকট্রন মেঘ বিদ্যমান, যা রেজোন্যান্সের মাধ্যমে অণুটিকে অতিরিক্ত স্থায়িত্ব (অ্যারোমেটিসিটি) প্রদান করে।
- যুত বিক্রিয়া ঘটলে বেনজিনের এই অ্যারোমেটিক সুস্থিতি বিনষ্ট হয়। ফলে সাধারণ অবস্থায় বেনজিন যুত বিক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না; বরং অ্যারোমেটিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে এটি মূলত 'ইলেকট্রোফিলিক (ইলেকট্রনাকর্ষী) প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া' দেয়।
- উদাহরণস্বরূপ, নাইট্রেশন, হ্যালোজিনেশন বা ফ্রিডেল-ক্র্যাফটস বিক্রিয়া:
অতএব, ইথিন () এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া হলো ইলেকট্রনাকর্ষী যুত বিক্রিয়া, অপরদিকে বেনজিন () এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া হলো ইলেকট্রনাকর্ষী প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া। সুতরাং এরা একই রকম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিক্রিয়া প্রদর্শন করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও