যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

মেরী একাদশ শ্রেণিতে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়েছে। সে বিষয় নির্বাচনের জন্য তার বড় বোন মিষ্টির পরামর্শ চায়। মেরীর কথা শুনে মিষ্টি বলল, "তুমি এমন বিষয় নির্বাচন করবে, যে বিষয়ের রয়েছে নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিয়মকানুন।" মিষ্টির কথা শুনে তার ভাই মামুন বলল, "তুমি এমন বিষয় নির্বাচন কর, যে বিষয় কর্মসম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং তা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হয়।"

  1. ক)

    অনুমান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য সত্যতা অর্জন করা'- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মিষ্টির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মিষ্টি ও মামুনের বক্তব্য পঠিত বিষয়ের আলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা বিষয় বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে মানসিক ধারণা বা জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াকে যুক্তিবিদ্যায় অনুমান (Inference) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য হলো সত্যতা অর্জন এবং মিথ্যাকে পরিহার করা। যুক্তিবিদ্যা কেবল চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে না, বরং সেই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে সঠিক চিন্তা ও বৈধ অনুমানের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সত্য বা সার্বিক সত্য উদঘাটন করতে সাহায্য করে। যুক্তিবিদ্যা রূপগত (Formal) ও বস্তুগত (Material)—উভয় প্রকার সত্য অর্জনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে বিধায় সত্যতা অর্জনই এর প্রধান ও চূড়ান্ত লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিষ্টির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার ‘বিজ্ঞান’ (Science) রূপটিকে নির্দেশ করে।

    বিজ্ঞান হলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও পর্যাপ্ত নিয়মভিত্তিক জ্ঞান। একটি বিজ্ঞানসম্মত বিষয়ের নির্দিষ্ট আলোচ্য ক্ষেত্র থাকে এবং তা ব্যাখ্যার জন্য সুনির্দিষ্ট সূত্র ও নিয়মাবলি বজায় থাকে।

    উদ্দীপকে মিষ্টি মেরীকে এমন বিষয় বেছে নিতে বলে যার "রয়েছে নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিয়মকানুন।" যুক্তিবিদ্যাও একটি সুশৃঙ্খল বিজ্ঞান; কারণ এর আলোচ্য বিষয় হলো চিন্তার বৈধতা ও অনুমানের সঠিকতা, এবং তা যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত ও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন যুক্তিবিদ্যায় বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং, মিষ্টির বক্তব্য মূলত যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানিক স্বরূপ নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিষ্টির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যাকে ‘বিজ্ঞান’ এবং মামুনের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যাকে ‘কলা’ (Art) হিসেবে নির্দেশ করে। পঠিত বিষয়ের আলোকে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

    বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা বৈধ চিন্তা ও অনুমানের নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়ন করে। উদ্দীপকে মিষ্টির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তিবিদ্যার একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল বিষয়বস্তু রয়েছে এবং তা ব্যাখ্যা করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে—যা বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য।

    অপরদিকে, কলা হলো এমন একটি শাখা যা কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের কলাকৌশল শেখায়। উদ্দীপকে মামুনের ভাষায়, যে বিষয় কর্মসম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, তা-ই কলা। যুক্তিবিদ্যা কেবল নিয়মাবলি শিখিয়েই ক্ষান্ত হয় না, বাস্তব জীবনে বৈধ যুক্তি গঠন ও অনুপপত্তি পরিহারের বাস্তব কলাকৌশল শিক্ষা দেয়।

    যুক্তিবিদ যোসেফ, কার্ভেথ রিড ও অ্যালড্রিচের মতে, যুক্তিবিদ্যা একাধারে বিজ্ঞান ও কলা। বিজ্ঞান হিসেবে এটি সত্যের রূপগত নিয়ম শেখায় এবং কলা হিসেবে তা বাস্তবে প্রয়োগের দক্ষতা বাড়ায়। অতএব, মিষ্টি ও মামুনের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার পরিপূরক দুটি দিক—বিজ্ঞান ও কলা রূপকেই যথার্থভাবে তুলে ধরে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন