অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশের প্রতি বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসল হানি হয়। কিছু জনগণ অতি মুনাফালোভী হওয়ায় ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। ফলে ভেজাল খাদ্য খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সচেতন জনগণ, মিডিয়া এবং এনজিওসমূহ নিরাপদ খাদ্যের পক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠে এবং সরকারও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
- ক)(1)
নিরাপদ খাদ্য কী?
- খ)(2)
খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে A দেশের খাদ্য অনিরাপদের দিকগুলো আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাধ্যমসমূহ কীভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদানমুক্ত এবং যা গ্রহণ করলে কোনো প্রকার রোগব্যাধি বা শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে না, তাকে নিরাপদ খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখা, পচন রোধ করা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। খাদ্যদ্রব্য মৌসুমি হওয়ায় বছরের সব সময় সব ফসল উৎপাদিত হয় না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ করলে একদিকে যেমন খাদ্যের অপচয় রোধ হয়, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাবৃষ্টির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্যের জোগান ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে A দেশের খাদ্য অনিরাপদের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. খাদ্যের অপ্রতুলতা বা খাদ্য ঘাটতি: A দেশের খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প, যা জনগণের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদাপূরণে বাধা সৃষ্টি করে।
২. প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ফসল হানি: নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়, যার ফলে খাদ্যের স্থায়ী প্রাপ্যতা বিঘ্নিত হয়।
৩. খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভেজাল মেশানো: অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছে।
৪. স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অসুস্থতা: ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশের সাধারণ জনগণ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এই বিষয়গুলো নির্দেশ করে যে A দেশে খাদ্যের সহজলভ্যতা, গুণগত মান ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সচেতন জনগণ, মিডিয়া, এনজিও এবং সরকার সমন্বিতভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে:
১. সচেতন জনগণ: ভোক্তারা খাদ্যে রাসায়নিক বা ভেজাল দেখলে তা বর্জন করে প্রতিবাদ জানাতে পারে এবং ক্ষতিকর পণ্য কেনা থেকে বিরত থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করতে পারে।
২. মিডিয়া বা গণমাধ্যম: গণমাধ্যম খাদ্য ভেজালের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করতে পারে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করতে পারে।
৩. এনজিওসমূহ (NGOs): তৃণমূল পর্যায়ে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা এবং রাসায়নিকমুক্ত কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা প্রদান করতে পারে।
৪. সরকার: সরকার বিশুদ্ধ খাদ্য আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত বাজার নজরদারি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে। পাশাপাশি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন ও পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত নিশ্চিত করতে পারে।অতএব, এই মাধ্যমগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি দেশে ভেজালমুক্ত এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও