সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
আমাদের সমাজব্যবস্থায় এক সময় বয়োজ্যেষ্ঠরা ছোটদেরকে গল্প, রূপকথা ও উপদেশমূলক বাণী শোনাত। এক সময় গ্রামে-গঞ্জে পালাগান, জারি-সারি ইত্যাদি ব্যাপকভাবে হতো। বিশেষ করে পুঁথিপাঠ, গাজীর গান, শ্লোকের মধ্য দিয়ে মানব চরিত্রের গুণাবলি প্রকাশ পেতো। বয়োজ্যেষ্ঠরা মনে করে, সময়ের পরিবর্তন হলেও এসবের প্রয়োজন এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
- ক)(1)
সমাজকাঠামো কী?
- খ)(2)
সভ্যতা মূলত বস্তুগত- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সংস্কৃতির কোন ধরনটি উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়াবলি সামাজিক নিয়ন্ত্রণে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? তোমার মত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকাঠামো হলো সমাজের বিভিন্ন দল, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ভূমিকা এবং সম্পর্কের এমন এক সামগ্রিক ও সুশৃঙ্খল বিন্যাস বা রূপরেখা, যার ওপর ভিত্তি করে সমাজ গঠিত ও পরিচালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সভ্যতা মূলত মানুষের বস্তুগত অর্জন বা প্রযুক্তির বাহ্যিক রূপকে নির্দেশ করে বলে একে বস্তুগত বলা হয়।
সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "সংস্কৃতি হলো আমরা যা, আর সভ্যতা হলো আমরা যা ব্যবহার করি।" সভ্যতার উপাদানগুলো মূলত বাস্তব, দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য; যেমন— অট্টালিকা, কলকারখানা, যানবাহন, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি আবিষ্কার ইত্যাদি। এগুলো মানুষ নিজেদের জীবনযাত্রাকে সহজ ও আরামদায়ক করতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করে। তাই সভ্যতা বাহ্যিক ও বস্তুগত বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সংস্কৃতির 'অবস্তুগত' ধরনটি উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়— বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস, আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতিশিক্ষা, ভাষা, সাহিত্য, গান, রূপকথা ইত্যাদির মতো দৃশ্যমান নয় এমন মননশীল সৃষ্টিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
উদ্দীপকে রূপকথা, উপদেশমূলক বাণী, পালাগান, জারি-সারি, পুঁথিপাঠ, গাজীর গান এবং শ্লোকের উল্লেখ করা হয়েছে। এই উপাদানগুলো মানুষের অভ্যন্তরীণ চেতনা, নৈতিক গুণাবলি ও ভাবনার বহিঃপ্রকাশ এবং এগুলো স্পর্শযোগ্য কোনো বস্তু নয়। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো অবস্তুগত সংস্কৃতির রূপকে প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়াবলি তথা লোকসংস্কৃতি ও অবস্তুগত ঐতিহ্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজ তার সদস্যদের আচরণকে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে বজায় রাখে। আইন ও পুলিশের মতো আনুষ্ঠানিক মাধ্যমের চেয়ে পরিবার, ধর্মীয় ও লোকজ মূল্যবোধের মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমগুলো ব্যক্তির মনস্তত্ত্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রূপকথা, উপদেশ, জারি-সারি, পুঁথিপাঠ, গাজীর গান এবং শ্লোক কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো মানুষের নৈতিক চেতনাকে জাগ্রত করে। এগুলোর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদিতা, সততা, পরোপকার, বড়দের সম্মান প্রদর্শন এবং অসৎ কাজের পরিণাম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। এর ফলে মানুষ ভেতর থেকেই অন্যায় ও অপরাধমূলক আচরণ থেকে দূরে থাকার তাগিদ অনুভব করে।
বর্তমান আধুনিক সমাজে অপরাধ ও অবক্ষয় রোধে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করতে হলে আমাদের এই লোকজ ঐতিহ্য ও উপদেশমূলক মাধ্যমগুলোর চর্চা ফিরিয়ে আনা জরুরি। সুতরাং, মানুষের নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়াবলি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও