সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

১৭৬০ সাল থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে একটি বিশেষ ঘটনার কারণে বিশ্বে একটি সুদূরপ্রসারী আমূল পরিবর্তন আসে। এ সময়ে বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। মানুষ প্রাকৃতিক শক্তিকে ব্যবহার করে উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করে।

  1. ক)

    বিপ্লব অর্থ কি?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পায়ন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে? তা আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনা মানব জীবনে কি ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে তুমি মনে করো তা বুঝিয়ে বল।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিপ্লব অর্থ প্রচলিত কোনো ব্যবস্থার মৌলিক, দ্রুত ও সুদূরপ্রসারী আমূল পরিবর্তন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিল্পায়ন বলতে হস্তচালিত কুটির শিল্পের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহদায়তন শিল্প-কারখানায় বৃহৎ পরিসরে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরকে বোঝায়। এটি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া যার ফলে কৃষিভিত্তিক সমাজ আধুনিক শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত হয় এবং জীবনযাত্রার মানে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত ঐতিহাসিক 'শিল্পবিপ্লব' (Industrial Revolution)-এর ইঙ্গিত বহন করে।

    ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবির মতে, ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী ও মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়, তা-ই শিল্পবিপ্লব নামে পরিচিত।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে একটি বিশেষ ঘটনার কারণে বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটে এবং মানুষ প্রাকৃতিক শক্তিকে উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করে অভূতপূর্ব উন্নতি করে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন, কয়লা ও লোহার ব্যবহার এবং যান্ত্রিক পদ্ধতির আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ প্রাকৃতিক শক্তিকে জয় করে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের সাহায্যে ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে। উদ্দীপকের এই সময়কাল ও পটভূমি সরাসরি শিল্পবিপ্লবকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পবিপ্লব মানবজীবনে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের বহুমুখী প্রভাব ফেলেছে।

    শিল্পবিপ্লবের ফলে সমগ্র বিশ্বব্যবস্থা ও মানবজীবনে যে পরিবর্তন সূচিত হয় তা নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. ইতিবাচক প্রভাব:

    • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যাপক উৎপাদন: হস্তচালিত যন্ত্রের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি আনে।
    • যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি: বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে রেল যোগাযোগ ও জাহাজের উন্নতি ঘটে, যার মাধ্যমে পণ্যের পরিবহন সহজ ও দ্রুততর হয়।
    • জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি মজবুত হয়।

    ২. নেতিবাচক প্রভাব:

    • পুঁজিপতি ও শ্রমিক শ্রেণির দ্বন্দ্ব: শিল্পবিপ্লবের ফলে সমাজে পুঁজিবাদী ও শ্রমিক—দুটি পৃথক শ্রেণির সৃষ্টি হয়। এর ফলে ধনিক শ্রেণি কর্তৃক শ্রমিকদের শোষণ বৃদ্ধি পায়।
    • বস্তি সমস্যা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা: অতিরিক্ত নগরায়ণের ফলে বস্তি সমস্যার উদ্ভব হয় এবং পরিবেশ দূষণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
    • যৌথ পরিবারের ভাঙন: গ্রাম থেকে মানুষ কাজের সন্ধানে শহরে আসায় সনাতন যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং মানসিক একাকীত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, শিল্পবিপ্লব যেমন মানবজাতিকে আধুনিকতা ও প্রাচুর্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে, তেমনি বহুবিধ নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক জটিলতার জন্ম দিয়েছে। এই জটিল সমস্যাগুলো মোকাবিলার প্রয়োজনেই পরবর্তীকালে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন