বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আমার এখন তৈরি হবার সময়।……… ………… ……….বড়ো দীর্ঘকাল আমি অপেক্ষা করেছিলাম উত্তাল উন সত্তুর আমাকে ডেকে এনেছে রাস্তায় প্রণয়ীর মতো মাটিকে আলিঙ্গনে বেঁধে রাখা চাষ। তার ঔরসে আমার জন্মপ্রতিটি কৃষক বিদ্রোহে আমি ছিলাম উলঙ্গ শড়কির হিংসা পলাশীর আম্রকাননে আমি ছিলাম মীরমর্দনের তলোয়ার ১৮৫৭'র সিপাহী বিদ্রোহে বিদ্রোহীর কার্তুজ আমি ছিলাম তীতুমীরের বাঁশের কেল্লা……… ………… ……….আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে এখন আমার আর ফেরার উপায় নেই।

  1. ক)

    'মহা-প্রলয়ের আমি' কে?

    (1)
  2. খ)

    'আমি সেই দিন হব শান্ত।'-কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'আমি' 'বিদ্রোহী' কবিতার 'আমি'র সঙ্গে কীভাবে তুলনীয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "বিষয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা চেতনাগতভাবে অভিন্ন।" -তুমি কি একমত? তোমার যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বিদ্রোহী' কবিতা অনুসারে 'মহা-প্রলয়ের আমি' হলেন নটরাজ (মহাদেব বা শিব)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি কাজী নজরুল ইসলাম উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং অত্যাচারীর খড়্গ-কৃপাণ চিরতরে নিবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

    'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সমাজে অন্যায়, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। পৃথিবীতে যতক্ষণ পর্যন্ত মজলুম ও শোষিত মানুষের আর্তনাদ বাতাসে ধ্বনিত হবে এবং অত্যাচারীর অস্ত্রের শাসন বজায় থাকবে, ততক্ষণ কবি বিদ্রোহের রণক্লান্ত রূপ ত্যাগ করবেন না। যেদিন সর্বপ্রকার শোষণের অবসান ঘটে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, কেবল সেদিনই তিনি শান্ত হবেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'আমি' ও 'বিদ্রোহী' কবিতার 'আমি' উভয়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন প্রতিরোধ, সংঘাত এবং বিপ্লবের মূর্ত প্রতীক হিসেবে তুলনীয়।

    'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নজরুলের 'আমি' কোনো একক ব্যক্তি নয়; বরং তা ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, অন্ধ কুসংস্কার এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক রুদ্র, বিপ্লবী চেতনা। তিনি নিজেকে মহাপ্রলয়, কালবৈশাখীর ঝড় ও বিশ্ববিনাশী রূপক হিসেবে উপস্থাপন করে শোষকের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেন।

    উদ্দীপকের 'আমি' একইভাবে বাংলার ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রাম ও গণমানুষের ক্ষোভের ধারাবাহিক রূপ। সে কৃষক বিদ্রোহের শড়কি, পলাশীর মীরমর্দনের তলোয়ার, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের কার্তুজ এবং তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা হয়ে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আধুনিক বিপ্লবের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। উভয় 'আমি'-ই শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সংগ্রামী জনগণের চিরন্তন বিদ্রোহী সত্তা প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বিষয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা চেতনাগতভাবে অভিন্ন"—মন্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    উদ্দীপকে বাংলার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রামের পরম্পরাকে (যেমন—কৃষক বিদ্রোহ, পলাশীর যুদ্ধ, সিপাহী বিদ্রোহ, তিতুমীরের আন্দোলন ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান) বিষয়বস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে 'বিদ্রোহী' কবিতায় বিষয়বস্তু হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে সনাতন ও ইসলামি পুরাণের বিভিন্ন রূপক, মহাজাগতিক শক্তি, আত্মজাগরণ এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সার্বিক মানবমুক্তির ডাক। দৃশ্যত দুটি রচনার প্রকাশভঙ্গি ও বিষয়বস্তুর পটভূমি ভিন্ন।

    কিন্তু গভীর চেতনাগত দিক থেকে উভয় রচনার মূল সুর এক ও অভিন্ন। দুটি রচনাতেই শোষকের বিরুদ্ধে আপসহীন বিদ্রোহ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘাত, বিপ্লবের আহ্বান এবং মুক্তি অর্জনের অদম্য আকাঙ্ক্ষা ধ্বনিত হয়েছে। 'বিদ্রোহী' কবিতার কবি যেমন উৎপীড়িতের পাশে দাঁড়িয়ে শোষকের খড়্গ গুঁড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর, উদ্দীপকের বক্তাও তেমনি ইতিহাসের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধকে ধারণ করে বিপ্লবের অগ্রভাগে আত্মনিয়োগ করেছেন।

    অতএব, বিষয়ের বাহ্যিক ভিন্নতা থাকলেও শোষণমুক্তির প্রত্যয় এবং বিপ্লবী চেতনার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা সম্পূর্ণরূপে অভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন