সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মিরাজ শিক্ষা সফরে মৌলভীবাজার গিয়ে বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেদের দেখতে পায়। তাদের সাথে আলাপের মাধ্যমে জানতে পারে তারা এক সময় আসামের কুকীদের অন্তর্গত ছিল। তারা বিশ্বাস করে তাদের উৎপত্তি একজন সর্পপুরুষ থেকে। তারা তিনটি জাতিসত্তায় বিভক্ত যার মধ্যে মুসলিম ধর্মাবলম্বীও রয়েছে। নৃত্য, নাগ পোশাক তাদের রুচিশীল সংস্কৃতির পরিচায়ক যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।

  1. ক)

    ক্যাং কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব হেডম্যানের’— বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয় তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবনধারা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ক্যাং' হলো মারমা ও অন্যান্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির বা উপাসনালয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রশাসনিক কাঠামোতে মৌজার প্রধানকে 'হেডম্যান' বলা হয়। হেডম্যানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিজ মৌজার অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি করা, সাধারণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং গ্রামীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মৌজাবাসীর ওপর তার সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব থাকে এবং সরকারের পক্ষে তিনি শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীটি হলো 'মণিপুরি'। এদের বসবাস মূলত মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে। মণিপুরিদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মঙ্গোলীয় মহাজাতির অন্তর্ভুক্ত। শারীরিক গঠনে তারা সাধারণত মাঝারি উচ্চতার, গায়ের রঙ ফর্সা বা হলুদ রঙের আভা থাকে, নাক কিছুটা চ্যাপ্টা, চুল সোজা ও কালো এবং চোখ মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের মতো ক্ষুদ্র ও কোঁচকানো পাতার হয়। তারা তিব্বতি-বর্মি ভাষা পরিবারের মীতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষায় কথা বলে। তাদের লোকবিশ্বাস ও পৌরাণিক কাহিনীতে সর্পপুরুষ (পাখংবা)-কে আদি পুরুষ মনে করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মণিপুরি নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবনধারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত।

    প্রথমত, তাদের সংস্কৃতিতে নৃত্য ও সংগীতের ভূমিকা অপরিসীম। মণিপুরিদের 'মণিপুরি নৃত্য' এবং রাসলীলা সারা বিশ্বে ধ্রুপদী নৃত্যশৈলী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক—বিশেষ করে নারীদের বোনা ইনফি, ফানেক এবং রাস নৃত্যের জমকালো বিশেষ পোশাক (পোলোই)—তাদের উচ্চ রুচিশীলতার পরিচায়ক।

    দ্বিতীয়ত, মণিপুরিরা তিনটি প্রধান ধারায় বিভক্ত: মীতৈ, বিষ্ণুপ্রিয়া এবং পাঙন। পাঙনরা ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং অন্যান্যরা প্রধানত সনাতন বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী।

    তৃতীয়ত, মণিপুরিদের তাঁতশিল্প বিশ্বখ্যাত। তারা গৃহস্থালির কাপড় নিজেরাই তৈরি করে। পরিচ্ছন্নতা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ঝুলনযাত্রা, হোলি এবং চৈত্রসংক্রান্তির মতো উৎসব তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। অতএব, আধ্যাত্মিকতা, ঐতিহ্যবাহী পরিচ্ছদ ও আন্তর্জাতিক মানের নৃত্যকলার সমন্বয়ে মণিপুরি সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন