ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • ব্যাংক ব্যবস্থার প্রাথমিক ধারণা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আরিফ সহকারী পরিচালক পদে একটি ব্যাংকে চাকরি করেন যেটি সরকারের অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে। জনাব আরিফের বন্ধু সিনিয়র অফিসার হিসাবে অন্য একটি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। ব্যাংকটি আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা করে থাকে।
- ক)(1)
বিশেষায়িত ব্যাংক কী?
- খ)(2)
'ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে'—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব আরিফ কোন ধরনের ব্যাংকে কর্মরত আছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত দুইটি ব্যাংকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের কোনো বিশেষ খাতের (যেমন: কৃষি, শিল্প ইত্যাদি) বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ও পরিচালিত ব্যাংককে বিশেষায়িত ব্যাংক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যিক ব্যাংক নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ঋণপত্র ও আধুনিক আর্থিক দলিল ইস্যু করে বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।
গ্রাহক ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের বিপরীতে চেক, পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে কেনাকাটা ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করতে পারেন। এ দলিলগুলো সরাসরি নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে লেনদেন সহজতর করে, যার ফলে বলা হয় ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আরিফ 'কেন্দ্রীয় ব্যাংকে' কর্মরত আছেন।
যে ব্যাংক দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও মুদ্রা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারের আর্থিক পরামর্শদাতা ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে, তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের যাবতীয় অর্থ গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং সরকারি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, জনাব আরিফ সহকারী পরিচালক হিসেবে এমন একটি ব্যাংকে কর্মরত, যেটি সরকারের অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে থাকে। সরকারের ব্যাংকার ও আর্থিক হিসাব সংরক্ষক হিসেবে এ দায়িত্বটি কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকই পালন করে থাকে (যেমন বাংলাদেশে 'বাংলাদেশ ব্যাংক')। অতএব, জনাব আরিফ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত আছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ব্যাংকটি হলো 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক' (যেখানে আরিফ কর্মরত) এবং দ্বিতীয় ব্যাংকটি হলো 'বাণিজ্যিক ব্যাংক' (যেখানে আরিফের বন্ধু কর্মরত)। নিম্নে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এ দুটি ব্যাংকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উদ্দেশ্যের ভিন্নতা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। পক্ষান্তরে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
২. মালিকানা ও পরিচালনা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক সরকারি, বেসরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন হতে পারে।
৩. মূল কার্যক্রম: কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ও মুদ্রা প্রচলন করে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করে এবং সরকারের হিসাব পরিচালনা করে। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং তা থেকে অধিক সুদে ঋণ প্রদান করে মুনাফা তৈরি করে।
৪. ঋণ নিয়ন্ত্রণ বনাম সৃষ্টি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সৃষ্টি করে না বরং দেশের সামগ্রিক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। অপরদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।
৫. ব্যাংকিং সম্পর্ক: কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো সকল ব্যাংকের ব্যাংক এবং সরকারের ব্যাংক; এটি সাধারণ জনগণের সাথে সরাসরি লেনদেন করে না। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে।
পরিশেষে বলা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠানই ব্যাংকিং ব্যবস্থার অংশ হলেও উদ্দেশ্য, কার্যপদ্ধতি এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে মৌলিক ও সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও