উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • উৎপাদন • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আরব আলী মৌসুমে বৃহত্তর ফরিদপুর ও পাবনা অঞ্চল হতে পেঁয়াজ ও রসুন সংগ্রহ করে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলে সরবরাহ করেন। এ সময় বিদেশ হতে প্রচুর পেঁয়াজ ও রসুন আমদানি হওয়ায় পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কমে যায়। তাই আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি দ্রুত সেগুলো বিক্রি করে দেন। ভবিষ্যতে এরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন।
- ক)(1)
শ্রমের উৎপাদনশীলতা কী?
- খ)(2)
"উৎপাদন একটি চলমান প্রক্রিয়া" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব আরব আলী পেঁয়াজ ও রসুন সংগ্রহের মাধ্যমে কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব আরব আলী ঝুঁকি কমাতে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোট উৎপাদনের পরিমাণ বা মূল্যকে মোট ব্যবহৃত শ্রমের পরিমাণ বা শ্রমঘণ্টা দ্বারা ভাগ করলে যা পাওয়া যায়, তাকে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন হলো কাঁচামাল বা উপকরণ রূপান্তরের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহারোপযোগী নতুন উপযোগ সৃষ্টির এক অবিরাম কর্মকাণ্ড। মানুষের অভাব অসীম এবং একটি অভাব পূরণ হলে নতুন অভাবের জন্ম হয়। এই ক্রমবর্ধমান ও নতুন নতুন প্রয়োজন মেটানোর জন্য উৎপাদন কার্যক্রম কখনো বন্ধ হয় না; বরং তা চক্রাকারে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। এ কারণেই উৎপাদনকে একটি চলমান প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আরব আলী পেঁয়াজ ও রসুন সংগ্রহের মাধ্যমে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করেছেন।
এক স্থানের উদ্বৃত্ত বা উৎপাদিত পণ্য অন্য স্থানের যেখানে ঘাটতি বা চাহিদা রয়েছে সেখানে পরিবহনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে স্থানগত উপযোগ বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আরব আলী পেঁয়াজ ও রসুনের মৌসুমে বৃহত্তর ফরিদপুর ও পাবনা অঞ্চল হতে এগুলো সংগ্রহ করে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলে সরবরাহ করেন। ফরিদপুর ও পাবনা হলো উৎপাদনকারী বা উদ্বৃত্ত অঞ্চল এবং পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল হলো চাহিদা বা ঘাটতি অঞ্চল। পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে তিনি ভৌগোলিক দূরত্বের প্রতিবন্ধকতা দূর করেছেন এবং স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আরব আলী ঝুঁকি কমাতে পণ্যের 'গুদামজাতকরণ' বা 'সংরক্ষণ' ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন। এ সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
উৎপাদন মৌসুম ও ভোগের মৌসুমের মধ্যকার সময়ের ব্যবধানে পণ্যের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সরবরাহের উদ্দেশ্যে পণ্য মজুত করাকে গুদামজাতকরণ বলে। এর মাধ্যমে সময়গত উপযোগ সৃষ্টি হয় এবং দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে জনাব আরব আলী মৌসুমে ফরিদপুর ও পাবনা থেকে পেঁয়াজ-রসুন কিনে তা পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলে নিয়ে যান। কিন্তু এ সময় বিদেশ থেকে প্রচুর আমদানি হওয়ায় হঠাৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে তিনি কম দামেই সেগুলো দ্রুত বিক্রি করে দেন। ভবিষ্যতে এরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন।
কৃষি ও পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে যখন বাজারে সরবরাহ বা আমদানি বেড়ে যায় এবং তাৎক্ষণিক বিক্রিতে লোকসানের আশঙ্কা থাকে, তখন হিমাগার বা আধুনিক গুদামজাতকরণের মাধ্যমে পণ্য মজুত রাখলে পরবর্তীতে যখন বাজারে সরবরাহ কমবে এবং দাম স্বাভাবিক বা বেশি হবে, তখন তা বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য ও লাভ নিশ্চিত করা যায়। অতএব, আমদানিজনিত কারণে সাময়িক দরপতনের ঝুঁকি মোকাবিলায় হিমাগার বা গুদামজাতকরণের সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও উপযুক্ত পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও