যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল প্রভৃতি গ্রহের প্রত্যেকটি গ্রহই সূর্যের চারদিকে ঘোরে। সুতরাং সকল গ্রহ সূর্যের চারদিকে ঘোরে।দৃশ্যকল্প-২ : 'ক' এবং 'খ' দুটি স্থান। দুটি স্থানেই আলো, পানি, বাতাস এবং নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিদ্যমান। জানা গেছে, 'খ' স্থানে মানুষ বসবাস করে। অতএব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় যে, 'ক' স্থানেও মানুষ বসবাস করে।
- ক)(1)
অসাধু সাদৃশ্যানুমান কী?
- খ)(2)
অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য নগণ্য। ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য নগণ্য। ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২-এ যে অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে তার মূল্য ও গুরুত্ব নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সাদৃশ্যানুমানে কয়েকটি অনাবশ্যক, বাহ্যিক বা অগুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় না করে কেবল অনুকূল বা অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করা। এখানে ব্যতিক্রমহীন অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত টানা হয়, যা যেকোনো সময় একটিমাত্র বিপরীত দৃষ্টান্তে ভুল প্রমাণিত হতে পারে। যেহেতু এটি নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয় বরং সম্ভাব্য। এই সম্ভাব্যতা ও দুর্বল ভিত্তির কারণেই যুক্তিবিদ্যায় অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈজ্ঞানিক মূল্য নগণ্য বলে বিবেচিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের অনুসন্ধান না করে কেবল প্রাকৃতিক নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর ভিত্তি করে অবাধ অভিজ্ঞতার সাহায্যে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেমন— এ যাবৎ আমরা যত বক দেখেছি সবই সাদা, কোনো ভিন্ন রঙের বক দেখিনি; সুতরাং সকল বক হয় সাদা।
এ ধরনের আরোহের মূল্য নগণ্য হওয়ার কারণ হলো:
১. এতে কার্যকারণ সম্বন্ধ অনুপস্থিত থাকে, ফলে সিদ্ধান্তটি কখনো শতভাগ নিশ্চিত হতে পারে না।
২. এর সিদ্ধান্তের ভিত্তি কেবল 'অবাধ অভিজ্ঞতা' (uncontradicted experience), ফলে ভবিষ্যতে একটিমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী দৃষ্টান্ত (যেমন— কালো রঙের বক) আবিষ্কৃত হলেই পুরো সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যায়।
৩. এটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রাথমিক স্তর হলেও নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সত্য প্রতিষ্ঠায় অক্ষম। তাই বাস্তব জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের দিক থেকে অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ সাদৃশ্যানুমান (Analogy), বিশেষ করে সাধু সাদৃশ্যানুমান প্রতিফলিত হয়েছে। দুটি বস্তুর বা স্থানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে একটির জ্ঞাত গুণ অন্যটিতে বিদ্যমান বলে অনুমান করাই সাদৃশ্যানুমান।
মূল্য ও গুরুত্ব নিরূপণ:
১. প্রকল্প প্রণয়নে সহায়তা: সাদৃশ্যানুমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উপযুক্ত প্রকল্প (hypothesis) গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে অনুমান করতে সাদৃশ্যানুমান পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।
২. বিজ্ঞানের আবিষ্কারে অবদান: বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কলিন মেঘ ও তড়িতের সাদৃশ্য লক্ষ করে বজ্রপাতের প্রকৃতি আবিষ্কার করেছিলেন। দৃশ্যকল্পে যেমন আলো, বাতাস ও আবহাওয়ার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানুষের বসবাসের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে, মহাকাশ গবেষণাতেও এভাবে গ্রহের বাসযোগ্যতা নিরূপণ করা হয়।
৩. ব্যবহারিক গুরুত্ব: দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সিদ্ধান্ত সাদৃশ্যের ভিত্তিতেই গ্রহণ করি।
৪. সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্যতা: সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত কখনো অকাট্য বা শতভাগ নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য। সাদৃশ্যগুলো যত বেশি মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক হবে, সিদ্ধান্তের সম্ভাবনার মাত্রাও তত বৃদ্ধি পাবে।অতএব, দৃশ্যকল্প-২ এ প্রতিফলিত অনুমানের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হলেও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও গবেষণার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা হিসেবে এর মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও