ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
গাজান খান সিংহাসনে আরোহণ করে পূর্বসূরিদের সকল। অন্যায় নীতি পরিষার করেন। ধর্মপ্রাণ এই শাসক শাসনকার্যে পূর্ণ ইসলামি ইতিনীতি পুনঃস্থাপন করেন। রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করে তিনি অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেন।
- ক)(1)
ডোম অব দি রক কী?
- খ)(2)
কাকে কেন, রাজেন্দ্র বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত খলিফার শাসন নীতি ছিল জনকল্যাণমুখী- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ডোম অব দি রক' (কুব্বাত আস-সাখরা) হলো জেরুজালেমে অবস্থিত খলিফা আবদুল মালিক কর্তৃক নির্মিত একটি ঐতিহাসিক ও পবিত্র ইসলামি সৌধ বা গম্বুজ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা প্রথম মারওয়ান এবং আবদুল মালিকের উত্তরসূরিদের রাজেন্দ্র বলা হয়। বিশেষভাবে খলিফা আবদুল মালিককে 'রাজাদের পিতা' বা রাজেন্দ্র বলা হয়, কারণ তাঁর চার পুত্র—প্রথম আল-ওয়ালিদ, সুলাইমান, দ্বিতীয় ইয়াজিদ এবং হিশাম ধারাবাহিকভাবে উমাইয়া খিলাফতের সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। তাঁর বংশধরদের মাধ্যমে দীর্ঘকাল শাসনকার্য পরিচালিত হওয়ায় ইতিহাসে তাঁকে রাজেন্দ্র বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গাজান খানের কর্মকাণ্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ (দ্বিতীয় ওমর)-এর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গাজান খান সিংহাসনে আরোহণ করে পূর্বসূরিদের সকল অন্যায় নীতি পরিহার করেন এবং ইসলামি রীতিনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন। একইভাবে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ সিংহাসনে আরোহণ করে পূর্ববর্তী উমাইয়া শাসকদের স্বৈরতান্ত্রিক, বৈষম্যমূলক ও অনৈসলামিক নীতি বর্জন করেন। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন এবং নব্য মুসলিম বা মাওয়ালিদের ওপর থেকে জিজিয়া কর রহিত করাসহ জনকল্যাণমুখী রাজস্ব সংস্কার প্রবর্তন করেন। ফলে উদ্দীপকের আদর্শিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দিক থেকে খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের সাথে গাজান খানের পূর্ণ সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন নীতি ছিল সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও বিশ্লেষণযোগ্য।
ওমর বিন আবদুল আজিজ উমাইয়া খলিফা হলেও তাঁর শাসনপদ্ধতি ছিল খোলাফায়ে রাশেদীনের ন্যায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক। সিংহাসনে বসে তিনি রাজকোষ থেকে অন্যায়ভাবে দখলকৃত সকল সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেন এবং নিজের ব্যক্তিগত সম্পদও বায়তুল মালে জমা দেন।
তিনি মাওয়ালি বা অনারব মুসলমানদের ওপর ধার্যকৃত অন্যায্য জিজিয়া কর বাতিল করেন, যা সামাজিক সমতা আনয়ন করে। অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং কৃষক ও সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা লাঘব করেন। এছাড়া তিনি রাস্তাঘাট, সরাইখানা, কূপ ও হাসপাতাল নির্মাণ করেন এবং দরিদ্রদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। তাঁর শাসনকালে সাম্রাজ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, জাকাত গ্রহণের মতো লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সুতরাং, ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে জনগণের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করায় তাঁর শাসন নীতি নিঃসন্দেহে জনকল্যাণমুখী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও