সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

মেয়েটির নাম পুষ্পাঞ্জলি। দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল। ভালোবেসে বিয়ে-করেছিলো অজয় দাসকে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী মারা যাওয়ায় মেয়েটি ভীষণ ভেঙে পড়ে। কারণ তাদের সমাজে মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ নেই। সে সময় আবির্ভূত হন এক মহান মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব, যার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। এর ফলে মেয়েটি দ্বিতীয় বিয়ে করে অমানবিক অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

  1. ক)

    ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    সতীদাহ প্রথা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সমাজ সংস্কার আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলন এর অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা হলেন রাজা রামমোহন রায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সতীদাহ প্রথা ছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় হিন্দু সমাজের একটি অমানবিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন রীতি, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জ্বলন্ত চিতায় জীবন্ত বিধবা স্ত্রীকে আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করা হতো। সমাজে প্রচলিত বিশ্বাস ছিল যে, চিতায় আত্মবিসর্জন দিলে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই পুণ্য লাভ করে। ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইন করে এ প্রথা নিষিদ্ধ করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক পরিচালিত 'বিধবা বিবাহ আন্দোলন'-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উনিশ শতকে হিন্দু সমাজে বিধবাদের পুনর্বিবাহের কোনো সুযোগ ছিল না। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের কারণে বহু অল্পবয়সী মেয়ে বিধবা হয়ে পরিবার ও সমাজে চরম লাঞ্ছনা ও অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হতো। সমাজসংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই নিষ্ঠুর প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং হিন্দু শাস্ত্র ঘেঁটে প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত।

    উদ্দীপকের পুষ্পাঞ্জলি অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে বিধবা হয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছিলেন এবং একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস হওয়ার পর তিনি পুনরায় বিয়ে করে মুক্তি পান। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ আন্দোলনের কথাই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৫৬ সালের হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ আন্দোলনের অবদান ছিল অবিসংবাদিত ও যুগান্তকারী।

    তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজে বিধবাদের বেঁচে থাকা ছিল অত্যন্ত অপমানজনক, যেখানে তাদের দ্বিতীয় বিয়ের কোনো অধিকার ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই অমানবিক প্রথার অবসান ঘটাতে পরম নিষ্ঠা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ 'পরাশর সংহিতা' গভীরভাবে পর্যালোচনা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত। তিনি পুস্তিকা প্রকাশ করে জনমত গঠন করেন এবং রক্ষণশীলদের কঠোর বিরোধিতার মুখোমুখি হন।

    বিদ্যাসাগর প্রায় এক হাজার বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও প্রবল আন্দোলনের ফলেই ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই লর্ড ডালহৌসির আমলে 'হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন' (Hindu Widows' Remarriage Act, 1856) পাস হয়। তিনি শুধু আইন পাস করিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিজ অর্থ ব্যয় করে এবং নিজের পুত্রকে বিধবার সাথে বিয়ে দিয়ে সমাজে এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করেন।

    সুতরাং, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিধবা বিবাহ আন্দোলনের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশের নারীদের দীর্ঘদিনের অমানবিক অবস্থার অবসান ঘটে এবং তাঁদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন