হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

লাবণ্য প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, সে যেন অনেক সম্পত্তির মালিক হতে পারে। গাড়ি, বাড়িসহ সকলকে নিয়ে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারে। অপরদিকে, তারই বান্ধবী নীলা কাজ করলেও ধন-সম্পদের প্রতি তার কোন লোভ-লালসা নেই। সে শুধু ঈশ্বরকে পেতে চায়।

  1. ক)

    একেশ্বরবাদ কী?

    (1)
  2. খ)

    জ্ঞানযোগ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    লাবণ্য কোন প্রকারের কর্ম করে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    লাবণ্য ও নীলা উভয়ের পক্ষে কি মোক্ষলাভ সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, তিনি একাধিক নন, এই বিশ্বাসকে একেশ্বরবাদ বলে।

  2. খ)

    জ্ঞানের অনুশীলনের মাধ্যমে পরম সত্তায় উপনীত হওয়ার পদ্ধতিকে জ্ঞানযোগ বলে। আত্মতত্ত্ব ও পরমার্থতত্ত্ব জানাকে শাস্ত্রে জ্ঞান বলা হয়েছে।

    জ্ঞানের পথে স্রষ্টাকে জানার সাধনাই জ্ঞানযোগ। জ্ঞানী উপলব্ধি করেন, সব প্রাণীর মধ্যে একই চেতনা বা আত্মা রয়েছে, যা পরমাত্মারই অংশ। এভাবে তিনি ব্রহ্মজ্ঞ হয়ে মোক্ষলাভ করেন।

  3. গ)

    লাবণ্য সকাম কর্ম করে।

    কর্মের ধারণা: যা কিছু করা হয়, তাকেই কর্ম বলে। কর্ম দুই রকম: সকাম কর্ম ও নিষ্কাম কর্ম। বিশেষ কোনো ফলের আশায় অর্থাৎ কামনা-বাসনাযুক্ত হয়ে যে কর্ম করা হয়, তাকে সকাম কর্ম বলে। এতে কর্তার কর্তৃত্বের অভিমান ও ফলাকাঙ্ক্ষা থাকে; কর্তা মনে করেন, আমি কর্ম করছি, কর্মের ফলও আমিই ভোগ করব। সকাম কর্মে বন্ধন সৃষ্টি হয়, ফলে জীবকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ থাকতে হয়। অপরদিকে ফলের আশা না রেখে যে কর্ম করা হয়, তা নিষ্কাম কর্ম।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: উদ্দীপকে লাবণ্য প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, সে যেন অনেক সম্পত্তির মালিক হয় এবং গাড়ি, বাড়িসহ সকলকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারে। অর্থাৎ তার প্রার্থনা ও কাজ সম্পদ ও ভোগের আশায় পরিচালিত। এখানে ফলাকাঙ্ক্ষা ও কামনা-বাসনা স্পষ্ট। তাই লাবণ্যের কর্মটি সকাম কর্মের উদাহরণ।

    অতএব, লাবণ্য সকাম কর্ম করে।

  4. ঘ)

    লাবণ্য সম্পদের আশায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, তাই তার কর্ম সকাম। নীলা ধন-সম্পদের লোভ ছাড়া শুধু ঈশ্বরকে পেতে চায়, তাই তার কর্ম নিষ্কাম। আমার মতে, দুজনের মধ্যে কেবল নীলার পক্ষেই মোক্ষলাভ সম্ভব; লাবণ্যের বর্তমান পথে তা সম্ভব নয়।

    মোক্ষ অর্থ চিরমুক্তি। জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হলে আর দেহান্তর হয় না, অর্থাৎ পুনর্জন্ম হয় না, একেই মোক্ষ বলে। মোক্ষলাভের তিনটি পথ: কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ।

    ১. লাবণ্যের সকাম কর্মের সীমাবদ্ধতা: সকাম কর্মে বন্ধন হয়। বৈদিক যুগে সকাম কর্মের সর্বোচ্চ ফল ছিল স্বর্গলাভ, কিন্তু গীতায় বলা হয়েছে, 'ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি', অর্থাৎ পুণ্য ক্ষয় হলে আবার মর্ত্যলোকে জন্মাতে হয়। তাই গাড়ি-বাড়ির আশায় করা প্রার্থনা মোক্ষ দিতে পারে না।

    ২. নীলার নিষ্কাম কর্মযোগ: নীলা কাজ করলেও সম্পদের প্রতি লোভ রাখে না। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন'। অর্থাৎ কর্মে অধিকার আছে, ফলে নয়। নিষ্কাম কর্মের ফল কর্তাকে স্পর্শ করে না এবং কর্মযোগের মাধ্যমে মোক্ষলাভ হয়।

    ৩. ঈশ্বরলাভের একনিষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা: নীলা শুধু ঈশ্বরকে পেতে চায়। এই একনিষ্ঠ ভক্তি ও কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করার মনোভাব থেকেই ঈশ্বরের অনুগ্রহে মুক্তি আসে।

    ৪. লাবণ্যের সম্ভাবনা: লাবণ্য যদি পরবর্তীতে ফলের আশা ত্যাগ করে কর্মকে ঈশ্বরে সমর্পণ করতে শেখে, তবে তার জন্যও মোক্ষের পথ খুলে যেতে পারে। কিন্তু উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী তার বর্তমান মনোভাব বন্ধনের কারণ।

    সুতরাং, উদ্দীপকে নীলার নিষ্কাম কর্ম ও একনিষ্ঠ ঈশ্বরচিন্তার মাধ্যমে মোক্ষলাভ সম্ভব, কিন্তু লাবণ্যের সকাম কর্মের মাধ্যমে নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন