জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : পরিপাক ও শোষণ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর:
- ক)(1)
শোষণ কী?
- খ)(2)
স্থূলতাকে কেন ব্যাধি বলা হয়?
- গ)(3)
উল্লিখিত 'P' অঙ্গের কাজে স্নায়ুতন্ত্রের ভূমিকা লেখ।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত 'Q' এবং 'R' উভয়ে গ্রন্থি হলেও কাজ ভিন্ন— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিপাক হওয়া সরল ও দ্রবণীয় খাদ্যসার অন্ত্রের প্রাচীর ভেদ করে রক্ত বা লসিকায় প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে শোষণ (Absorption) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থূলতা (Obesity) হলো এমন এক শারীরিক অবস্থা, যাতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার ফলে স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বিএমআই (BMI) ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা বলা হয়।
স্থূলতার কারণে শরীরে স্বাভাবিক বিপাকীয় ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং এটি উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার, অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু এটি ব্যক্তির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং জীবনঘাতী বিভিন্ন জটিলতার মূল কারণ হিসেবে কাজ করে, তাই স্থূলতাকে একটি গুরুতর রোগ বা ব্যাধি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ‘P’ অঙ্গটি হলো পাকস্থলী (Stomach)। পাকস্থলীর পরিপাক রস ক্ষরণ ও পেশিকম্পনে স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ভূমিকাগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সেফালিক বা স্নায়বিক পর্যায়: খাদ্যের দর্শন, গন্ধ, চিন্তা এমনকি খাদ্য মুখে নেওয়ার সাথে সাথেই স্বাদগ্রাহক থেকে স্নায়বিক উদ্দীপনা ভেগাস স্নায়ুর (Vagus nerve) মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মেডুলা অবলংগাটায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ভেগাস স্নায়ুর প্যারাসিম্প্যাথেটিক তন্তুর মাধ্যমে পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিতে উদ্দীপনা প্রেরিত হয় এবং খাদ্য পৌঁছানোর আগেই গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ শুরু হয়।
২. গ্যাস্ট্রিক পর্যায় ও স্থানীয় স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ: খাদ্য পাকস্থলীতে পৌঁছালে পাকস্থলী প্রাচীরের প্রসারণ (stretch) ঘটে। এর ফলে প্রাচীরে অবস্থিত মেকানোরিসেপ্টর উদ্দীপিত হয় এবং প্রাচীরের অভ্যন্তরীণ স্নায়ুজালক (যেমন— মায়েন্টেরিক এবং সাবমিউকোসাল প্লেক্সাস) সক্রিয় হয়ে স্থানীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া (local reflex) তৈরি করে। এটি গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ বজায় রাখে এবং মসৃণ পেশির পেরিস্টালসিস আন্দোলনকে তীব্র করে খাদ্য পিষে ফেলতে সহায়তা করে।
৩. অন্ত্রীয় প্রতিবর্ত (Enterogastric reflex): পাকস্থলী থেকে অম্লীয় কাইম যখন ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে, তখন ডিওডেনামের স্নায়ুগ্রাহক উদ্দীপিত হয়ে অটোনমিক স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সংকেত পাঠায়, যা পাকস্থলীর ভেগাস উদ্দীপনাকে দমন করে। এর ফলে পাকস্থলীর সংকোচন ও গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ কমে যায় এবং পাকস্থলী ধীরে ধীরে খাদ্য ডিওডেনামে পাঠায়।
সুতরাং, স্নায়ুতন্ত্র সংবেদনশীল সংকেত ও ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে পাকস্থলীর রস ক্ষরণ ও পেশির সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে পরিপাক প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে নির্দেশিত ‘Q’ হলো যকৃৎ (Liver) এবং ‘R’ হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। মানবদেহে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপাক গ্রন্থি হওয়া সত্ত্বেও এদের গঠন, ক্ষরণ এবং কাজের প্রকৃতিতে সুস্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গ্রন্থির প্রকৃতিগত পার্থক্য:
- যকৃৎ (Q) হলো মানবদেহের বৃহত্তম পরিপাক গ্রন্থি, যা মূলত একটি সনাল বা বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- অপরদিকে, অগ্ন্যাশয় (R) হলো একটি মিশ্র গ্রন্থি (Heterocrine gland); যার বহিঃক্ষরা অংশ সনাল গ্রন্থির মতো পরিপাক এনজাইম ক্ষরণ করে এবং অন্তঃক্ষরা অংশ (আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স) হরমোন সরাসরি রক্তে ক্ষরণ করে।
২. পরিপাক রস ও উৎসেচকের ভিন্নতা:
- যকৃৎ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। এতে কোনো পাচক এনজাইম থাকে না। পিত্তলবণ মূলত চর্বিকণাকে ভেঙে ক্ষুদ্র ড্রপলেটে পরিণত করে (ইমালসিফিকেশন) এবং অম্লীয় কাইমকে ক্ষারীয় রূপ দেয়।
- অগ্ন্যাশয় থেকে ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজের মতো শক্তিশালী এনজাইম সমৃদ্ধ অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়, যা শর্করা, আমিষ ও লিপিড— তিন ধরনের খাদ্যেরই পূর্ণ রাসায়নিক পরিপাক ঘটায়।
৩. বিপাকীয় বনাম হরমোনজনিত কাজ:
- যকৃৎ মানবদেহের 'জৈব রসায়নাগার' হিসেবে কাজ করে। এটি গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন তৈরি (গ্লাইকোজেনেসিস), গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ মুক্ত করা (গ্লাইকোজেনোলাইসিস), ইউরিয়া তৈরি, টক্সিন ও ক্ষতিকর পদার্থ বিনষ্টকরণ এবং রক্ত তৈরি ও ভাঙনের মতো নানা বিপাকীয় কাজ করে।
- অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন হরমোন সরাসরি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলাইটাস রোগ হয়।
অতএব, দেখা যাচ্ছে যে যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয় উভয়ে পরিপাকতন্ত্র সংশ্লিষ্ট গ্রন্থি হলেও এদের নিঃসরণ, শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম এবং ভূমিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পরস্পরের পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও