জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
Obesity কী?
- খ)(2)
পরিপাকে দাঁতের ভূমিকা উল্লেখ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গের যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পরিপাক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অঙ্গের শর্করা পরিপাক ও বিপাকীয় ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরীরে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর শারীরিক অবস্থাকে ওবেসিটি (Obesity) বা স্থূলতা বলে। সাধারণত বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই (BMI) ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিপাকে দাঁতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁত যান্ত্রিক পরিপাকে সরাসরি অংশ নেয়। মানবদেহে চার ধরনের দাঁত রয়েছে:
১. ইনসিসর বা কর্তন দাঁত: খাদ্যবস্তুকে কেটে টুকরো করে।
২. ক্যানাইন বা ছেদন দাঁত: শক্ত খাবার ছেঁড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. প্রিমোলার বা অগ্রপেষণ দাঁত: খাবার চর্বণ ও গুঁড়ো করতে সাহায্য করে।
৪. মোলার বা পেষণ দাঁত: খাদ্যবস্তুকে পুরোপুরি পিষে মিহি মণ্ড তৈরিতে সাহায্য করে।
দাঁত বড় ও শক্ত খাবারকে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত করে খাদ্যের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে, ফলে লালা ও অন্যান্য পরিপাককারী এনজাইম সহজে ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলী (Stomach)। পাকস্থলীতে যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পরিপাক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. যান্ত্রিক পরিপাক:
পাকস্থলীর প্রাচীরের তিনটি স্তরে মসৃণ পেশি (অনুদৈর্ঘ্য, বৃত্তাকার ও তির্যক) বিন্যস্ত থাকে। গ্যাস্ট্রিন হরমোনের প্রভাবে পাকস্থলীর পেশিগুলোর শক্তিশালী পেরিস্টালসিস আন্দোলন ঘটে, যাকে 'চানিং মুভমেন্ট' বলে। এই আন্দোলনের ফলে খাদ্যবস্তু পিষ্ট হয়ে মিহি পেস্টে পরিণত হয়। একই সাথে খাদ্য উপাদান গ্যাস্ট্রিক জুসের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিশে অর্ধতরল মণ্ডে পরিণত হয়, যাকে কাইম (Chyme) বলে।২. রাসায়নিক পরিপাক:
পাকস্থলীর প্রাচীরের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক জুসে প্রধানত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন থাকে।- HCl-এর ভূমিকা: HCl নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তরিত করে এবং অম্লীয় পরিবেশ (pH 1.5–2.5) সৃষ্টি করে জীবাণু ধ্বংস করে।
- প্রোটিন পরিপাক: সক্রিয় পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে প্রোটিনকে হাইড্রোলাইসিসের মাধ্যমে প্রোটিওজ ও পেপটনে পরিণত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিন নামক এনজাইম দুগ্ধ প্রোটিন কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে, যা পরে পেপসিন দ্বারা পরিপাক হয়।
- শর্করা পরিপাক: পাকস্থলীতে কোনো শর্করা পরিপাককারী এনজাইম থাকে না, তাই শর্করার কোনো রাসায়নিক পরিপাক ঘটে না।
- লিপিড পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক দুর্বল এনজাইম কেবল অম্লীয় মাধ্যমে কিছু পরিমাণ চর্বি ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তর করতে পারে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। এটি একটি মিশ্র গ্রন্থি যা শর্করা পরিপাক ও বিপাকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে:
১. শর্করা পরিপাকে ভূমিকা (বহিঃক্ষরা ভূমিকা):
অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশ বা অ্যাসিনাস থেকে ক্ষরিত অগ্ন্যাশয় রসে কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম থাকে:- অগ্ন্যাশয়িক অ্যামাইলেজ (Amylase): এটি সিদ্ধ ও অসিদ্ধ শ্বেতসার এবং গ্লাইকোজেনকে ভেঙে ডাইস্যাকারাইড মল্টোজে পরিণত করে।
- মল্টেজ (Maltase): এটি স্বল্প পরিমাণে ক্ষরিত হয়ে মল্টোজকে ভেঙে দুটি গ্লুকোজ অণুতে পরিণত করে।
২. শর্করা বিপাকীয় ভূমিকা (অন্তঃক্ষরা ভূমিকা):
অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ 'আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স' থেকে ক্ষরিত হরমোন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে:- ইনসুলিন (বিটা কোষ থেকে ক্ষরিত): রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিন ক্ষরিত হয়। এটি দেহকোষে গ্লুকোজ প্রবেশ বাড়ায়, গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যকৃৎ ও পেশিতে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে এবং প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে গ্লুকোজ উৎপাদন (গ্লুকোনিওজেনেসিস) বাধাগ্রস্ত করে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে।
- গ্লুকাগন (আলফা কোষ থেকে ক্ষরিত): রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে গ্লুকাগন ক্ষরিত হয়। এটি যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে পাঠায় এবং গ্লুকোনিওজেনেসিস বাড়িয়ে রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা বৃদ্ধি করে।
সুতরাং, অগ্ন্যাশয় একদিকে এনজাইম ক্ষরণের মাধ্যমে খাদ্যস্থিত শর্করার পরিপাক নিশ্চিত করে এবং অন্যদিকে হরমোন ক্ষরণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার বিপাক ও ভারসাম্য বজায় রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও