যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি.কবির চারুকলার শিক্ষক। তিনি ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে সহপাঠ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের চারুকলার বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দেন। মি. ফাহমিদ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। অধ্যক্ষ মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন, প্রকৃত জ্ঞান চর্চার ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের সাথে শিখন কৌশলও অবলম্বন করতে হয়।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যা কেন কলাবিদ্যা?
- গ)(3)
মি. কবিরের কার্যক্রমে যুক্তিবিদ্যার কোন দিকটি নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে অধ্যক্ষের বক্তব্য তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকেবিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাস্ত্র কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বা কৌশল শিক্ষা দেয় এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সেই নিয়মগুলোর সার্থক প্রয়োগ ঘটায়, তাকে কলা বা কলাবিদ্যা বলে।
যুক্তিবিদ্যা কেবল বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত থাকে না, বরং কীভাবে সেই নিয়মগুলো সঠিকভাবে বাস্তব চিন্তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সত্য অর্জন ও মিথ্যা বা ভ্রান্তি পরিহার করা যায়, তার ব্যবহারিক কৌশলও শিক্ষা দেয়। এই ব্যবহারিক প্রয়োগ ও কৌশল নির্দেশ করার কারণেই যুক্তিবিদ্যাকে কলাবিদ্যা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. কবিরের কার্যক্রমে যুক্তিবিদ্যার 'কলা' বা ব্যবহারিক দিকটি নির্দেশ করছে।
কলাবিদ্যা হলো এমন একটি বিষয় যা কোনো লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী কর্মপদ্ধতি বা কলাকৌশল শিক্ষা দেয়। যুক্তিবিদ্যাও একটি কলাবিদ্যা; কারণ এটি সত্য আবিষ্কার এবং যুক্তিপদ্ধতিকে ভ্রান্তিমুক্ত রাখার জন্য বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ম ও কৌশল প্রয়োগের শিক্ষা দেয়। যুক্তিবিদ অলড্রিচ, কার্ভেথ রিড প্রমুখ যুক্তিবিদ্যাকে কলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চারুকলার শিক্ষক মি. কবির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌশল ও কর্মপদ্ধতি শিখিয়ে দেন। চারুকলার নিয়ম বাস্তব অনুশীলনে প্রয়োগ করার এই শিক্ষা যেমন কলার অন্তর্ভুক্ত, তেমনি যুক্তিবিদ্যারও একটি দিক রয়েছে যা সত্যের অন্বেষণে চিন্তার নিয়মগুলোর বাস্তব প্রয়োগ-কৌশল শেখায়। সুতরাং, মি. কবিরের এই শিক্ষাদান যুক্তিবিদ্যার কলাবিষয়ক দিককেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ মহোদয়ের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার সামগ্রিক স্বরূপ অর্থাৎ এটি 'বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই'—এই ধারণাকে সার্থকভাবে সমর্থন ও বিশ্লেষণ করে।
বিজ্ঞান কোনো বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও নিশ্চিত তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে, আর কলা সেই জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে সুচারুভাবে প্রয়োগের কৌশল নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ যোসেফ, কার্ভেথ রিড ও মিলের মতে যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান এবং কলা। কারণ যুক্তিবিদ্যা যেমন সঠিক চিন্তার সাধারণ নিয়ম ও সত্যের স্বরূপ তাত্ত্বিকভাবে আলোচনা করে বিজ্ঞানের রূপ পরিগ্রহ করে, তেমনি সেই নিয়মগুলোকে বাস্তব চিন্তায় প্রয়োগ করে ভ্রান্তি দূর করার কৌশলও শিক্ষা দেয়, যা কলার কাজ।
উদ্দীপকে বিজ্ঞানের শিক্ষক মি. ফাহমিদ প্রায়োগিক বা বস্তুনিষ্ঠ দিকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং চারুকলার শিক্ষক মি. কবির শিখিয়েছেন কৌশল। অধ্যক্ষ মহোদয় উভয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বলেন, "প্রকৃত জ্ঞান চর্চার ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকের সাথে শিখন কৌশলও অবলম্বন করতে হয়।" তাঁর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে যে, শুধু তত্ত্ব জানা যথেষ্ট নয়, তার বাস্তব ও সুশৃঙ্খল প্রয়োগের কৌশলও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তিবিদ্যার লক্ষ্যও অভিন্ন; এটি নিয়ম প্রণয়ন করে সত্যকে যেমন ব্যাখ্যা করে (বিজ্ঞান), তেমনি সেই নিয়মকে বাস্তব যুক্তিতর্ক ও চিন্তায় প্রয়োগ করার রীতি নির্দেশ করে (কলা)।
অতএব, অধ্যক্ষের বক্তব্যের আলোকেই প্রমাণিত হয় যে যুক্তিবিদ্যা কেবল বিজ্ঞান বা কেবল কলা নয়, বরং এটি একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও