কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বাংলাদেশের কৃষি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
"যদি অধিক ফলন চান সুষম মাত্রায় সার দেন"- এমন একটি পোস্টার দেখে রহমান মিয়া তার জমিতে যথেষ্ট সার ব্যবহার করতে চান না। তাই তিনি এবার বোরো ধানের জমিতে সার প্রয়োগ। ব্যবস্থা নিয়ে ভাবলেন। তিনি তার বন্ধু রফিকের কাছে কী পরিমাণ সার কখন জমিতে প্রয়োগ করতে হবে সে সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। রফিক সাহেব তাকে বাংলালিংক ফোন হতে ৭৬৭৬ নম্বরে ফোন করে সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে বললেন।
- ক)(1)
কৃষক মাঠ স্কুল কী?
- খ)(2)
ই-কৃষি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
রফিক সাহেব তার বন্ধুকে যে প্রক্রিয়ায় সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে বলেছিলেন তার কার্যপদ্ধতি লেখো।
- ঘ)(4)
রহমান মিয়া উল্লিখিত সার ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে কী কী সুফল পেতে পারেন বলে তুমি মনে করো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষক মাঠ স্কুল (FFS) হলো কৃষকদের মাঠে হাতে-কলমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি, বিশেষ করে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) শেখানোর একটি আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ই-কৃষি (e-Agriculture) বলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে কৃষি বিষয়ক তথ্য, প্রযুক্তি, বাজারদর ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেওয়ার আধুনিক সেবাকে বোঝায়। এর আওতায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, কৃষক কল সেন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে কৃষিসেবা প্রদান করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রফিক সাহেব তার বন্ধুকে বাংলালিংক সংযোগ থেকে '৭৬৭৬' নম্বরে ডায়াল করে কৃষি পরামর্শ পাওয়ার প্রক্রিয়াটির কথা বলেছেন, যা একটি মোবাইলভিত্তিক কৃষি হেল্পডেস্ক বা আইভিআর (IVR) ভিত্তিক কৃষিসেবা। এর কার্যপদ্ধতি নিম্নরূপ:
১. কল করা: কৃষক তার বাংলালিংক মোবাইল সংযোগ থেকে সরাসরি ৭৬৭৬ নম্বরে ডায়াল করবেন।
২. নির্দেশিকা অনুসরণ: কল সংযোগের পর স্বয়ংক্রিয় ভয়েস মেসেজ বা মেন্যুর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বাটন চেপে প্রয়োজনীয় অপশন (যেমন- ফসল ও সার ব্যবস্থাপনা) বেছে নিতে হয়।
৩. তথ্য প্রদান: কৃষক তার ফসলের ধরন (যেমন: বোরো ধান), জমির পরিমাণ ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেন।
৪. পরামর্শ গ্রহণ: এর মাধ্যমে সরাসরি একজন অভিজ্ঞ কৃষি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে অথবা স্বয়ংক্রিয় পরামর্শের মাধ্যমে বোরো ধানের জন্য কোন সার, কী পরিমাণে এবং কখন প্রয়োগ করতে হবে তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রহমান মিয়া বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে নিম্নলিখিত সুফলগুলো পেতে পারেন:
১. ফলন বৃদ্ধি: ফসলের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সঠিক সময়ে সরবরাহ করায় ধানের কুশি ও শিষের বৃদ্ধি ভালো হবে এবং ফলন সর্বোচ্চ হবে।
২. অর্থনৈতিক সাশ্রয়: অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের অপচয় বন্ধ হবে, ফলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
৩. মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ: সুষম সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সার জনিত মাটির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা মেলে।
৪. রোগবালাইয়ের প্রকোপ হ্রাস: জমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার দিলে গাছ দুর্বল ও নরম হয়ে পোকা ও রোগের আক্রমণ বাড়ে। সুষম সার প্রয়োগে ধান গাছ মজবুত হয় এবং রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৫. পরিবেশ দূষণ রোধ: অতিরিক্ত সার ভূগর্ভস্থ পানি বা নিকটস্থ জলাশয়ে মিশে জলদূষণ ঘটায়, সুষম প্রয়োগে সেই পরিবেশ বিপর্যয় রোধ হয়।সুতরাং, উল্লিখিত পরামর্শ মেনে চলা রহমান মিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত লাভজনক হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও