মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
স্নায়ুতন্ত্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোনটি?
- খ)(2)
পিটুইটারিকে প্রভু গ্রন্থি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত চিত্রটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত 'A' এবং 'B' বিষয়বস্তুর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্নায়ুতন্ত্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মস্তিষ্ক (Brain)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'প্রভু গ্রন্থি' (Master Gland) বলা হয়, কারণ এটি মানবদেহের অন্যান্য অনাল বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন—থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জনন গ্রন্থি ইত্যাদি) ক্ষরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সরাসরি অন্য গ্রন্থিগুলোকে উদ্দীপিত করে তাদের হরমোন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে। তাই একে সকল গ্রন্থির নিয়ন্ত্রক বা প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত চিত্রটি হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যকরী একক 'নিউরন' বা স্নায়ুকোষ।
একটি আদর্শ নিউরন প্রধানত দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত:
১. কোষদেহ (Cell body / Soma): এটি নিউরনের প্রধান অংশ, যা প্লাজমামেনব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত। এতে গলগি বস্তু, মাইটোকন্ড্রিয়া ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। কোষদেহের চারপাশ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখান্বিত অংশ বের হয়, যাকে ডেনড্রাইট (Dendrite) বলে। ডেনড্রাইট অন্যান্য নিউরন থেকে সংকেত গ্রহণ করে কোষদেহে পাঠায়।
২. প্রবর্ধক বা অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন একক, দীর্ঘ নলাকার শাখাকে অ্যাক্সন বলে। এর মাধ্যমে স্নায়ুসংকেত কোষদেহ থেকে পরবর্তী নিউরন বা পেশিতে বাহিত হয়। অ্যাক্সনের ওপর মায়োলিন আবরণী এবং স্থানে স্থানে রেনভিয়ারের পর্ব থাকে। অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত শাখান্বিত হয়ে প্রান্তীয় শাখা (Terminal buttons) গঠন করে, যা পরবর্তী নিউরনের সাথে সাইন্যাপস সৃষ্টি করে স্নায়ুপ্রবাহ সঞ্চালন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের দুটি শাখা 'A' এবং 'B' হলো যথাক্রমে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System) এবং পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Parasympathetic Nervous System)।
উভয় ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কাজের প্রকৃতি: সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শরীরকে সক্রিয় ও উত্তেজিত করে ('Fight or Flight' প্রতিক্রিয়া)। অন্যদিকে, পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজনা প্রশমিত করে দেহকে পূর্বের স্বাভাবিক ও শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনে ('Rest and Digest' অবস্থা)।
২. হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ: সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়; পক্ষান্তরে, পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র হৃৎস্পন্দন কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনে এবং রক্তচাপ হ্রাস করে।
৩. চোখের মণি: ভীতি বা উত্তেজনায় সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র চোখের মণিকে প্রসারিত করে, আর পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র চোখের মণিকে সংকুচিত করে স্বাভাবিক করে।
৪. পরিপাক ক্রিয়া: সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র পাকস্থলী ও অন্ত্রের পরিপাক ক্রিয়া এবং লালাক্ষরণ হ্রাস করে বা সাময়িক বন্ধ রাখে। পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র লালাক্ষরণ ও পাচক রস নিঃসরণ বাড়িয়ে পরিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে।
৫. শক্তির ব্যবহার: সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র দেহে শক্তির ব্যয় ঘটায়, আর পরা-সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র শক্তি সংরক্ষণ ও দেহের ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে।সুতরাং, 'A' ও 'B' পরস্পর বিপরীতধর্মী কাজ করলেও মানবদেহের শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য (Homeostasis) রক্ষায় এরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও