গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বয়ঃসন্ধিকাল কাকে বলে?
- খ)(2)
শৈশবকালীন বিকাশকে কেন সংকটপূর্ণ বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে যে বয়সের শিশু নির্দেশ করে তার পরিচয় ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-১ ও ছক-২ এর সহজাত প্রক্রিয়াগুলো উক্ত বয়সের শিশুর সুস্থতার পরিচয়ক— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শৈশবকাল ও যৌবনকালের মধ্যবর্তী যে পরিবর্তনশীল সময়ে ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ও যৌন পরিপক্বতা শুরু হয় এবং প্রজনন সক্ষমতা অর্জিত হয়, তাকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। সাধারণত ১০-১১ বছর থেকে ১৮-১৯ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শৈশবকালীন বিকাশকে সংকটপূর্ণ বলা হয় কারণ এই সময়ে মানবজীবনের ভিত্তি রচিত হয় এবং যেকোনো ত্রুটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জন্মের পর থেকে শৈশবাবস্থায় শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ অত্যন্ত দ্রুত ঘটে। এ সময়ে শিশুর পুষ্টি, স্নেহ-ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশের অভাব হলে বা কোনো মানসিক আঘাত পেলে শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। শৈশবের অপূর্ণতা বা সমস্যা পরবর্তীতে সংশোধন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, তাই বিকাশ মনোবিজ্ঞানে শৈশবকালীন বিকাশকে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'নবজাতক কাল' (Neonatal period)-এর শিশুকে নির্দেশ করা হয়েছে। জন্মের পর থেকে প্রথম দুই সপ্তাহ (বা ১৪ দিন) পর্যন্ত সময়কে নবজাতক কাল বলা হয়।
উদ্দীপকের ছক-১ এ বর্ণিত শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া প্রতি মিনিটে ৪০-৪৫ বার হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত অঙ্গ সঞ্চালন, নিদ্রার পরিমাণ বেশি ও জাগ্রত অবস্থা কম থাকা এবং ছক-২ এ ত্বক সংবেদনশীল হওয়া, চোখের আলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া (সংকোচন-প্রসারণ) ও গ্রাস্পিং রিফ্লেক্স বা হাতে বস্তু ধরার মতো বিষয়গুলো নবজাতকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
মাতৃগর্ভের সুরক্ষিত ও উষ্ণ পরিবেশ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতককে বাইরের নতুন ও ভিন্নধর্মী পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এ সময় শিশুর প্রধান কাজ হলো পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ফুসফুসের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ, স্তন্যপান বা চোষার মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ ও অপদ্রব্য নিষ্কাশনের সাথে অভিযোজন করা। নবজাতকের মাংসপেশি ও স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি পরিপক্ব না হওয়ায় তার নড়াচড়া অনৈচ্ছিক বা প্রতিবর্তী ক্রিয়া (reflexes) দ্বারা পরিচালিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলো নবজাতক কালের শিশুর পরিচয়কেই সুস্পষ্ট করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-১ ও ছক-২ এর সহজাত প্রক্রিয়া বা প্রতিবর্তী ক্রিয়াগুলো নবজাতকের সুস্থতা ও স্নায়বিক স্বাভাবিকতার প্রধান পরিচায়ক— উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ছক-১ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো: মিনিটে ৪০-৪৫ বার শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, অনিয়ন্ত্রিত অঙ্গ সঞ্চালন এবং নিদ্রা বেশি হওয়া। নবজাতকের ফুসফুস ছোট হওয়ায় তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বড়দের চেয়ে দ্রুত (মিনিটে ৪০-৪৫ বার) হওয়া স্বাভাবিক। দিনে প্রায় ১৬-১৮ ঘণ্টা ঘুম নবজাতকের দ্রুত শারীরিক ও মস্তিষ্কের কোষ বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, তাদের মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির সংযোগ পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় অঙ্গ সঞ্চালন স্বতঃস্ফূর্ত ও অনিয়ন্ত্রিত হয়, যা সুস্থ স্নায়ুতন্ত্রের লক্ষণ।
ছক-২ এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ত্বক বেশ সংবেদনশীল, চোখের সংকোচন-প্রসারণ এবং স্বাভাবিকভাবে হাতে কিছু দিলে তা আঁকড়ে ধরা (Grasping Reflex)। তীব্র আলোতে চোখের পাতা বন্ধ হওয়া বা পিউপিল সংকুচিত হওয়া নবজাতকের দৃষ্টি স্নায়ু ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে। ত্বকের সংবেদনশীলতা শিশুর স্পর্শানুভূতি ও অনুভূতির বিকাশকে প্রতিফলিত করে। এছাড়াও হাতের তালুতে স্পর্শ লাগলে শক্ত করে চেপে ধরা একটি অন্যতম প্রধান সহজাত রিফ্লেক্স।
এসব সহজাত প্রক্রিয়া যদি কোনো নবজাতকের মধ্যে যথাযথভাবে প্রকাশ না পায়, তবে তা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি, মস্তিষ্কের ক্ষতি বা কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রক্রিয়াগুলোর সঠিক ও স্বাভাবিক উপস্থিতি নবজাতকের সুস্থতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং বেঁচে থাকার অভিযোজন ক্ষমতা নির্দেশ করে। তাই উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও