পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. জেমস জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থা অর্জন করায় রাষ্ট্রপতি তাঁকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। পদমর্যাদা অনুযায়ী তিনি দেশের প্রকৃত শাসক। তাঁর ক্ষমতা ও কার্যাবলি ব্যাপক।
- ক)(1)
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী কে?
- খ)(2)
সচিবালয় বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ব্যক্তির সাথে বাংলাদেশের কোন পদের নিয়োগ ও পদমর্যাদা সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির পদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী হলেন ‘অ্যাটর্নি জেনারেল’ (Attorney General)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয়কে একত্রে সচিবালয় বলা হয়। সচিবালয় হলো জাতীয় প্রশাসনের স্নায়ুকেন্দ্র এবং নীতিনির্ধারণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকেই মন্ত্রীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি নীতি প্রণীত হয়, প্রশাসনিক কার্যাবলির সমন্বয় ও তদারকি করা হয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ব্যক্তির সাথে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান অর্থাৎ ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদের নিয়োগ ও পদমর্যাদার ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত জেমস সাহেব যেমন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থা অর্জন করায় রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হয়েছেন এবং দেশের প্রকৃত শাসক, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও একইভাবে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী।
পদমর্যাদার দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রিসভার প্রধান এবং দেশের মূল নির্বাহী প্রধান। পদমর্যাদাক্রমে রাষ্ট্রপতির পরেই প্রধানমন্ত্রীর স্থান হলেও শাসনতান্ত্রিকভাবে তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী এবং সরকারের প্রধান নীতি-নির্ধারক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদটি হলো সংসদীয় সরকারব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু ‘প্রধানমন্ত্রী’। পাঠ্যবইয়ের আলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা: সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বাধীনে পরিচালিত হয়। তিনি মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন, যে কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন এবং সামগ্রিক প্রশাসন তদারক করেন।
২. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা: আইনসভায় প্রধানমন্ত্রী নেতা। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিলসমূহ তাঁর অনুমোদন ও নির্দেশনায় সংসদে উত্থাপিত ও পাস হয়। তিনি সংসদ অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন।
৩. অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদনক্রমেই অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট ও অর্থবিল পেশ করেন।
৪. নীতি নির্ধারণ: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের সার্বিক নীতিমালা নির্ধারণ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়।
৫. নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক, নির্বাচন কমিশনার, পিএসসি চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৬. আন্তর্জাতিক ভূমিকা: তিনি বহির্বিশ্বে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং অন্যান্য দেশের সাথে চুক্তি ও সম্পর্ক নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।পরিশেষে বলা যায়, সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কেবল সরকারের প্রধান নন, বরং তিনি জাতীয় সংসদের নেতা এবং সমগ্র শাসনযন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও