‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি রাষ্ট্রের পূর্ব অংশের জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে পশ্চিম অংশের শাসক মহল চাপের মুখে একটি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের শোচনীয় পরাজয় ঘটে এবং অপর একটি রাজনৈতিক জোট অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে।

  1. ক)

    উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কেন গঠন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক জোটটির গঠনসহ নির্বাচনের ফলাফল উল্লেখ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "এই নির্বাচনে বিজয় বাঙালির ঐক্যবদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনার ফল" উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ (১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনকে সুসংগঠিত, বেগবান ও সর্বাত্মক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। তৎকালীন সময়ে খাজা নাজিমুদ্দীনের উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণার প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে এই পরিষদটি গঠিত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক জোটটি হলো ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে গঠিত 'যুক্তফ্রন্ট'।

    জোটের গঠন: ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে প্রধান চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এই দলগুলো হলো:
    ১. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ
    ২. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি
    ৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম
    ৪. হাজী মুহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল।
    যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা' এবং তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ছিল ঐতিহাসিক '২১ দফা'।

    নির্বাচনের ফলাফল: ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে (যার মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই লাভ করে ১৪৩টি আসন)। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পেয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "এই নির্বাচনে বিজয় বাঙালির ঐক্যবদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনার ফল"—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ-বঞ্চনা শুরু করে। এর বিরুদ্ধে বাঙালি জনগণ তাদের নিজস্ব স্বাধিকারের তাগিদ অনুভব করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বাঙালির স্বার্থসংশ্লিষ্ট '২১ দফা' ইশতেহার ঘোষণা করে, যা ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিফলন। ২১ দফার মধ্যে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা, পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল।

    যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মধ্যবিত্ত ও হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। মুসলিম লীগ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ইসলাম বিপন্ন হওয়ার প্রচারণা চালালেও সচেতন বাঙালি ভোটাররা সেই সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক চেতনার মাধ্যমে বাঙালি জনগণ যুক্তফ্রন্টকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে এবং ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং, এ বিজয় ছিল বাঙালির ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবোধের ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন