জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
একজন গবেষক একটি উদ্ভিদের পার্শ্ব মুকুল নিয়ে গবেষণাগারে উদ্ভিদটির অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চারা তৈরি করলেন। যার প্রতিটিই ছিল হুবহু মাতৃ উদ্ভিদের গুণ সম্পন্ন।
- ক)(1)
টটিপটেন্সি কাকে বলে?
- খ)(2)
ট্রান্সফরমেশন বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হয় সেগুলো লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রক্রিয়ায় যে ধরনের কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয় তার প্রথম ও ৩য় ধাপের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য আছে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের প্রতিটি সজীব দেহকোষেরই পূর্ণাঙ্গ একটি নতুন উদ্ভিদ তৈরি করার যে অন্তর্নিহিত জন্মগত ক্ষমতা থাকে, তাকে সেলুলার টটিপটেন্সি (Cellular Totipotency) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্রান্সফরমেশন হলো এমন একটি বংশগতীয় পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো পোষক ব্যাক্টেরিয়া কোষ তার পারিপার্শ্বিক মাধ্যম থেকে সরাসরি কোনো মুক্ত বহির্গত ডিএনএ অণু গ্রহণ করে নিজের জিনোমে অঙ্গীভূত করে নেয় এবং নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের রূপান্তর ঘটায়। ব্যাকটেরিয়ার জিনতত্ত্ব এবং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তিতে জিন স্থানান্তরের জন্য ট্রান্সফরমেশন পদ্ধতি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাগারে পার্শ্ব মুকুল থেকে হুবহু মাতৃ উদ্ভিদের ন্যায় অসংখ্য চারা তৈরির প্রযুক্তিটি হলো উদ্ভিদ টিস্যু কালচার বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন। এ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলো নিম্নরূপ:
১. জীবাণুমুক্তকরণের সমস্যা: কালচার মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটলে পুরো কালচার ধ্বংস হয়ে যায়। কাঁচপাত্র, পুষ্টিমাধ্যম এবং এক্সপ্ল্যান্টকে শতভাগ জীবাণুমুক্ত রাখা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন কাজ।
২. সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশন (Somaclonal variation): দীর্ঘকাল ধরে টিস্যু কালচার করার ফলে কোষ বিভাজনে ত্রুটি বা জেনেটিক ও এপিজেনেটিক পরিবর্তনের কারণে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত প্রকরণ সৃষ্টি হতে পারে, ফলে মাতৃউদ্ভিদের গুণাগুণ নষ্ট হয়।
৩. এক্সপ্ল্যান্টের বাদামি হওয়া (Browning/Vitrification): টিস্যু কাটার পর নিঃসৃত ফেনলিক যৌগের জারণের ফলে পুষ্টিমাধ্যম বাদামি বা কালো হয়ে যায়, যা টিস্যুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া চারা হাইপারহাইড্রিক বা কাঁচের মতো অস্বচ্ছ হয়ে দুর্বল হতে পারে।
৪. ব্যয়বহুল ও দক্ষ জনবলের অভাব: এ প্রযুক্তির জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
৫. মাঠপর্যায়ে অভিযোজন সমস্যা (Acclimatization failure): ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত চারাগুলো প্রাথমিক অবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশে রোপণ করলে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক সময় টিকে থাকতে পারে না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পার্শ্ব মুকুল থেকে চারা তৈরির প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ টিস্যু কালচারে মাইটোসিস (Mitosis) কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয়। মাইটোসিস বিভাজনের প্রথম ধাপ হলো 'প্রোফেজ' (Prophase) এবং তৃতীয় ধাপ হলো 'অ্যানাফেজ' (Anaphase)। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. পর্যায়কাল: প্রোফেজ হলো মাইটোসিসের প্রাথমিক ও দীর্ঘস্থায়ী ধাপ। পক্ষান্তরে, অ্যানাফেজ হলো মাইটোসিসের গতিময় ও তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী ধাপ।
২. ক্রোমোসোমের অবস্থা ও জলবিয়োজন/জলযোজন: প্রোফেজ ধাপে জলবিয়োজন (dehydration) ঘটে, ফলে ক্রোমাটিন তন্তুগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত ও ঘনীভূত হয়ে দৃশ্যমান স্পষ্ট ক্রোমোসোমে পরিণত হয়। অ্যানাফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে দুটি স্বতন্ত্র অপত্য ক্রোমোসোমে পরিণত হয়।
৩. ক্রোমাটিডের সংখ্যা ও দৃশ্যমানতা: প্রোফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোসোম অনুদৈর্ঘ্যে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে যা সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে। অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজনের ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে গিয়ে একক অপত্য ক্রোমোসোম হিসেবে রূপ নেয়।
৪. চলন বা স্থানান্তর: প্রোফেজে ক্রোমোসোমগুলো নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে ইতস্তত ছড়ানো থাকে, কোনো মেরুমুখী চলন ঘটে না। অ্যানাফেজে অপত্য ক্রোমোসোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ারের অগ্রগামিতা এবং স্পিন্ডল তন্তুর সংকোচনের কারণে বিষুবীয় অঞ্চল থেকে বিপরীত মেরুর দিকে চলতে থাকে (অ্যানাফেজিক চলন)।
৫. ক্রোমোসোমের আকার: প্রোফেজ ধাপে ক্রোমোসোমের সুনির্দিষ্ট ইংরেজি অক্ষরের মতো রূপ বোঝা যায় না। কিন্তু অ্যানাফেজিক চলনের সময় সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে অপত্য ক্রোমোসোমগুলো V (মেটাসেন্ট্রিক), L (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) বা I (টেলোসেন্ট্রিক) আকৃতি ধারণ করে।
৬. নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন: প্রোফেজ ধাপের শেষ দিকে নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের অবলুপ্তি শুরু হয়। কিন্তু অ্যানাফেজ ধাপে এদের কোনো উপস্থিতি দেখা যায় না (বিলুপ্ত অবস্থাতেই থাকে)।
সুতরাং, গঠনগত বৈশিষ্ট্য এবং ক্রোমোসোমের আচরণ বিবেচনা করলে মাইটোসিসের প্রথম ও তৃতীয় ধাপের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও