ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব মারুফ একটি কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক। তিনি কোনো কাজেই প্রতিষ্ঠানের অধস্তনদের মতামত গ্রহণ করেন না। নিজে যা ভালো মনে করেন তাই করেন। এতে অধস্তনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হ্রাস পায়। পরবর্তীতে তিনি অধস্তনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য সকল কাজে তাদের মতামত গ্রহণ শুরু করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জিত হয়।

  1. ক)

    তত্ত্বাবধান কী?

    (1)
  2. খ)

    একজন নেতাকে ধৈর্যশীল হতে হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব মারুফ কোন ধরনের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জনাব মারুফের অনুসৃত নির্দেশনা পদ্ধতিই তার প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের কারণ"- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধস্তন কর্মীরা প্রদত্ত নির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে কি না তা প্রত্যক্ষভাবে দেখাশোনা, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে তত্ত্বাবধান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নেতৃত্ব প্রদানে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কর্মীদের বিভিন্ন ভুলত্রুটি ও ভিন্নমত স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার জন্য একজন নেতাকে ধৈর্যশীল হতে হয়। নেতা ধৈর্যহীন বা অধৈর্য হলে কর্মীরা দ্বিধাগ্রস্ত ও অসন্তুষ্ট হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে। ধৈর্যশীলতা নেতার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মীদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব মারুফ প্রথম পর্যায়ে 'স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব' (Autocratic Leadership) অনুসরণ করেছেন।

    যে নেতৃত্ব পদ্ধতিতে নেতা সকল ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত রাখেন, কোনো কাজে অধস্তনদের সাথে আলোচনা বা পরামর্শ করেন না এবং অধস্তনদের মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো নির্দেশ জারি করেন, তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মারুফ প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজেই অধস্তনদের মতামত গ্রহণ করেন না এবং তিনি নিজে যা ভালো মনে করেন তা-ই করেন। ফলে কর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের সাথে জনাব মারুফের এই আচরণ হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ; জনাব মারুফের পরবর্তীতে অনুসৃত 'গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নির্দেশনা/নেতৃত্ব পদ্ধতি'ই প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের মূল কারণ।

    গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় অধস্তনদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করা হয়। এর ফলে কর্মীদের মনোবল, উৎসাহ ও কাজের প্রতি মালিকানাবোধ বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে প্রথম পর্যায়ে জনাব মারুফ স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় অধস্তনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হ্রাস পায়। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল কাজে তাদের মতামত গ্রহণ শুরু করেন, যা গণতান্ত্রিক নির্দেশনা বা নেতৃত্ব পদ্ধতির বহিঃপ্রকাশ।

    এ রূপান্তরের ফলে কর্মীদের মধ্যকার ক্ষোভ ও অসন্তোষ দূর হয় এবং তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজে মনোনিবেশ করে। কর্মীদের কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলে, যার দরুন প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। সুতরাং, অংশগ্রহণমূলক বা গণতান্ত্রিক নির্দেশনা পদ্ধতিই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ঘুরে দাঁড়ানো ও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের প্রধান কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন