ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মামুন ১০ বছরের জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। বিমাচুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি তিনি মারা যান তাহলে তার পরিবার বিমাদাবি পাবেন অথবা মেয়াদ শেষে তিনি নিজে পাবেন। মেয়াদ শেষে বিমাদাবি উত্থাপন করলে বিমা প্রতিষ্ঠান জানতে পারে তার বয়স, ৪৫ হলেও তিনি বিমাপত্রে ৪০ বছর উল্লেখ করেছেন।
- ক)(1)
পুনর্নিমা কী?
- খ)(2)
দ্বৈত্য বিমা কীভাবে করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব মামুন কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব মামুন বিমাদাবি পাওয়ার যোগ্য কি? বিমার নীতির আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাকারী কোনো ঝুঁকি গ্রহণ করার পর সেই ঝুঁকির একাংশ বা সম্পূর্ণ অংশ অন্য কোনো বিমা কোম্পানির কাছে পুনরায় বিমা করলে তাকে পুনর্বিমা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই বিমাযোগ্য বিষয়ের ওপর একই সময়ের মধ্যে একাধিক বিমাকারীর নিকট থেকে বিমাপত্র গ্রহণ করাকে দ্বৈত বিমা বলা হয়।
দ্বৈত বিমা করার ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতা তার জীবন বা সম্পদের মূল্যের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই সাথে দুই বা ততোধিক বিমা কোম্পানির সাথে পৃথক পৃথক চুক্তি সম্পাদন করেন এবং প্রত্যেক কোম্পানিকে আলাদা প্রিমিয়াম প্রদান করেন। জীবন বিমার ক্ষেত্রে দ্বৈত বিমা করা হলে মৃত্যু বা মেয়াদপূর্তিতে সকল কোম্পানির কাছ থেকেই পূর্ণ বিমাদাবি আদায় করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মামুন 'মেয়াদি জীবন বিমাপত্র' (Endowment Life Policy) গ্রহণ করেছেন।
যে জীবন বিমাপত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিমা করা হয় এবং মেয়াদের মধ্যে বিমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বিমাগ্রহীতা জীবিত থাকলে তাকে নিজেই বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে মেয়াদি জীবন বিমাপত্র বলে।
উদ্দীপকে জনাব মামুন ১০ বছরের জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন। চুক্তির শর্তানুসারে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে মারা গেলে তার পরিবার এবং মেয়াদ শেষে তিনি জীবিত থাকলে নিজে বিমাদাবি পাবেন— এমন শর্ত ছিল। এই বৈশিষ্ট্যটি সরাসরি মেয়াদি জীবন বিমাপত্রের নির্দেশক। সুতরাং, তিনি একটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমার পরম সদ্বিশ্বাসের নীতির আলোকে জনাব মামুন বিমাদাবি পাওয়ার যোগ্য নন, তবে বিমা আইন অনুযায়ী বয়স সংশোধনের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে তিনি দাবি পেতে পারেন।
বিমা চুক্তির একটি অন্যতম মৌলিক নীতি হলো 'পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি'। এই নীতি অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতাকে বিমাচুক্তি সম্পাদনকালে তার বয়স, স্বাস্থ্য ইত্যাদিসংক্রান্ত সকল সত্য তথ্য নির্ভুলভাবে বিমাকারীর নিকট প্রকাশ করতে হয়। বয়স জীবন বিমার ঝুঁকি ও প্রিমিয়াম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান উপাদান। ভুল বা মিথ্যা বয়স প্রকাশ করলে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মামুনের প্রকৃত বয়স ৪৫ বছর হলেও তিনি বিমাপত্রে ৪০ বছর উল্লেখ করে তথ্য গোপন ও অসত্য বিবরণ দিয়েছেন। এর ফলে তিনি বিমার 'পরম সদ্বিশ্বাসের নীতি' স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। এই নীতি লঙ্ঘনের কারণে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিমা কোম্পানি চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করে বিমাদাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারে এবং সে দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি দাবি পাওয়ার যোগ্য নন।
তবে বিমা আইন ও প্রচলিত নীতিমালা অনুসারে, বিমাকৃত ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হলে এবং মেয়াদপূর্তিতে তা প্রমাণিত হলে— যদি তা ইচ্ছাকৃত প্রতারণা না হয়ে থাকে, তবে প্রকৃত বয়সের ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ও সুদ সমন্বয় বা বিমা অঙ্কের পরিমাণ আনুপাতিক হারে হ্রাস করে বিমাদাবি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। সারসংক্ষেপে, পরম সদ্বিশ্বাসের নীতির সরাসরি লঙ্ঘনের কারণে তিনি পূর্ণ দাবি পাওয়ার যোগ্য নন; বরং চুক্তিটি বাতিলযোগ্য বা শর্তসাপেক্ষে সমন্বয়যোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও