‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ভবানীগঞ্জ অঞ্চলের ঔপনিবেশিক শাসকেরা 'ভবানীগঞ্জ শাসন আইন' নামে একটি আইন তৈরি করে। উক্ত আইনে প্রদেশের পরিবর্তে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। উক্ত আইনের আলোকেই ঐ অঞ্চলের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

  1. ক)

    বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তার বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আইনের আলোকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নবগঠিত প্রদেশের নাম 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' (Eastern Bengal and Assam)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন বলতে এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রাদেশিক সরকারের শাসনক্ষমতা দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশগুলোতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) এবং 'সংরক্ষিত' (Reserved) এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। হস্তান্তরিত বিষয়গুলোর দায়িত্ব ছিল জনগণের দ্বারা নির্বাচিত ভারতীয় মন্ত্রীদের হাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বিষয়গুলোর দায়িত্ব ছিল গভর্নর ও তাঁর শাসন পরিষদের হাতে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের (Government of India Act 1935) সাদৃশ্য রয়েছে। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন: ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশ এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র (All India Federation) গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
    ২. কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন: ১৯১৯ সালের আইনে প্রদেশগুলোতে থাকা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বাতিল করে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়।
    ৩. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন বিলোপ করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন (Provincial Autonomy) প্রদান করা হয়।
    ৪. ক্ষমতা বণ্টন: কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে তিনটি তালিকায় (কেন্দ্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা ও যৌথ তালিকা) বিভক্ত করা হয়।
    ৫. ফেডারেল কোর্ট ও ব্যাংক প্রতিষ্ঠা: একটি ফেডারেল কোর্ট (বিচার বিভাগ) এবং ফেডারেল ব্যাংক (রিজার্ভ ব্যাংক) প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আলোকেই ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় রাজনীতিতে এই নির্বাচনের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী:

    ১. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিপুল রাজনৈতিক উদ্দীপনা ও ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়।
    ২. কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ: নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং বিভিন্ন প্রদেশে সরকার গঠন করে। এটি কংগ্রেসকে জাতীয় ঐক্যের প্রধান রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
    ৩. মুসলিম লীগের পুনর্গঠন ও শিক্ষা: মুসলিম লীগ এই নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল করতে না পারায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উপলব্ধি করেন যে সাধারণ মুসলমানদের কাছে সংগঠনকে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এটি মুসলিম লীগকে পুনর্গঠিত করে একটি শক্তিশালী গণসংগঠনে রূপান্তরে প্রেরণা দেয়।
    ৪. সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সূচনা: কংগ্রেস মন্ত্রিসভাগুলোর একতরফা কর্মকাণ্ড ও মুসলিম লীগকে ক্ষমতার অংশীদার না করায় মুসলমানদের মধ্যে বঞ্চনাবোধ তৈরি হয়। ফলে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আন্দোলনের পথ সুগম হয়।
    ৫. বাংলায় হক মন্ত্রিসভা গঠন: বাংলায় শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগ যৌথভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করে, যা বাংলার কৃষকদের ঋণমুক্তি ও প্রজাস্বত্ব আইনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, ১৯৩৭ সালের নির্বাচন ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এক ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন