সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
কারখানাটিতে বিভিন্ন পদমর্যাদা ও বেতনভুক্ত কর্মকর্তা- কর্মচারী কাজ করে। কারখানার মালিক বিপুল সম্পদ ও আয়ের অধিকারী। তারপর রয়েছে ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। কারখানার শ্রমিকরা নিম্নবেতনে কর্মরত। তাদের অবস্থা খুব সুখকর নয়। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতে বসবাস করছে। শিক্ষা, চিকিৎসা কীভাবে নিশ্চিত হবে এই শ্রমিকরা জানে না। শ্রমিক ইউনিয়ন ও রাষ্ট্র এসব বিষয়ে ভূমিকা না নিলে তাদের অবস্থার উন্নতি হবে না।
- ক)(1)
সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
- খ)(2)
নারী-পুরুষের সাংস্কৃতিক বিভাজন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের কোন ধরনটি উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রাচীনতম রূপ হলো দাস প্রথা (Slavery)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারী-পুরুষের সাংস্কৃতিক বিভাজন বলতে মূলত 'জেন্ডার' (Gender)-কে বোঝায়। সমাজ ও সংস্কৃতির দ্বারা নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত ভূমিকা, আচরণ, দায়িত্ব ও প্রত্যাশাই হলো সাংস্কৃতিক বিভাজন। প্রকৃতিগত বা শারীরবৃত্তীয়ভাবে নারী-পুরুষের যে পার্থক্য তা হলো সেক্স (Sex), কিন্তু সমাজ যখন নারীকে দুর্বল, পরনির্ভরশীল বা গৃহকর্মে সীমাবদ্ধ এবং পুরুষকে পরিবারের কর্তা বা উপার্জনক্ষম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, তখন তাকে সাংস্কৃতিক বিভাজন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের আধুনিক রূপ অর্থাৎ 'সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা' (Social Class and Status)-র ধরনটি উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক মানদণ্ড, উৎপাদন উপকরণের মালিকানা এবং পেশাগত মর্যাদার ভিত্তিতে আধুনিক সমাজে যে বিভাজন দেখা যায়, তা-ই শ্রেণিভিত্তিক স্তরবিন্যাস। কার্ল মার্কসের মতে, উৎপাদনের উপায়ের মালিকানার ভিত্তিতে মূলত দুটি শ্রেণি গড়ে ওঠে—পুঁজিপতি বা মালিক শ্রেণি এবং সর্বহারা বা শ্রমিক শ্রেণি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কারখানার মালিক বিপুল সম্পদ ও আয়ের অধিকারী, যা তাকে উচ্চশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর রয়েছে ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, যা মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে নিম্নবেতনে কর্মরত শ্রমিকরা, যারা পরিবার নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তারা নিম্ন বা শ্রমিক শ্রেণির পরিচায়ক। সুতরাং, উদ্দীপকে অর্থনৈতিক অবস্থান ও পেশাগত মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শ্রেণিভিত্তিক সামাজিক স্তরবিন্যাসকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশা লাঘবে সামাজিক নিরাপত্তার ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিরাপত্তা হলো রাষ্ট্র বা সমাজের পক্ষ থেকে নাগরিকদের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়—যেমন: অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য, দুর্ঘটনা এবং অঙ্গহানির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কারখানার শ্রমিকরা স্বল্প আয়ের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের পরিবারে শিক্ষা ও চিকিৎসার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন অসহায় অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তার পদক্ষেপগুলো তাদের রক্ষা করতে পারে:
১. শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা ও বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
২. দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির মতো আর্থিক সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা।
৩. শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
৪. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ন্যায্য ও ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।সুতরাং, শ্রমিক ইউনিয়ন ও রাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দূর হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তা বিধানই শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের প্রধান চাবিকাঠি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও