সমাজকর্ম ২য় পত্র • সমাজকর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

সাভারে একটি গার্মেন্টসে মালিক ও শ্রমিক দ্বন্দ্বের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারিদের ছাঁটাই করে মালিক নতুন করে কারখানা শুরু করতে চাইলে তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করে। উচ্চবিত্ত কর্মকর্তাদের সমস্যা না হলেও নিম্ন শ্রেণির কর্মীদের পথে বসতে হয়। এদের সমস্যা সমাধান ও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন উপলব্ধি করে।

  1. ক)

    ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের কোন বিশেষায়িত শাখা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যার সমাধানে তৃতীয় পক্ষ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? মতামত দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি বিশেষায়িত শাখা, যেখানে মনস্তাত্ত্বিক, আবেগীয় ও আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনোসামাজিক মূল্যায়ন এবং সুনির্দিষ্ট থেরাপিউটিক বা কাউন্সেলিং পদ্ধতির মাধ্যমে সমাধান প্রদান করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রবীণ সমাজকর্ম (Gerontological Social Work) বলতে সমাজকর্মের সেই বিশেষায়িত শাখাকে বোঝায়, যা প্রবীণ বা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। এই শাখায় প্রবীণদের বার্ধক্যজনিত সমস্যা সমাধান, অবসরকালীন সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা হিসেবে 'শিল্প সমাজকর্ম' (Industrial Social Work) তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।

    শিল্প সমাজকর্ম হলো সমাজকর্ম পদ্ধতির এমন একটি প্রয়োগিক ক্ষেত্র, যা শিল্প-কারখানায় মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সুসম্পর্ক বজায় রাখা, শ্রম অসন্তোষ হ্রাস এবং শ্রমিকদের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রাখে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সাভারের একটি গার্মেন্টসে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং নিম্ন শ্রেণির শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। এই জটিল পরিস্থিতিতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন, উভয়ের স্বার্থ রক্ষা এবং সমঝোতা সৃষ্টির জন্য শিল্প সমাজকর্ম পেশাগত তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যৌথ দরকষাকষি ও মধ্যস্থতায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত গার্মেন্টস কারখানার অচলাবস্থা ও শ্রমিক ছাঁটাই সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শিল্প সমাজকর্মী অত্যন্ত কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেন। নিচে এ সংক্রান্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মধ্যস্থতা ও সমঝোতা: শিল্প সমাজকর্মী মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের মধ্যে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবেন। তিনি উভয় পক্ষের যুক্তিসঙ্গত দাবি ও সংকট শুনে পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

    ২. যৌথ দরকষাকষিতে সহায়তা: শ্রমিকদের অধিকার ও কারখানার আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ যৌথ দরকষাকষি (Collective Bargaining) প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন, যাতে মালিক ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়।

    ৩. পুনর্বাসন ও বিকল্প সহায়তা: যেসব শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে, তাদের অবিলম্বে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান অথবা পুনঃনিয়োগের সুপারিশ করতে পারেন।

    ৪. নীতি প্রণয়নে পরামর্শ: ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য মালিকপক্ষকে শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে পরামর্শ দিতে পারেন।

    সুতরাং, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শিল্প সমাজকর্মীর পেশাগত জ্ঞান, নৈতিক মানদণ্ড ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের মাধ্যমে উক্ত গার্মেন্টস কারখানার মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন