‍ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

রহমান সাহেব ছিলেন ভারতীয় মুসলিম সমাজের অগ্রদূত। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূত্রপাত করে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

  1. ক)

    মুসলীম লীগ গঠিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

    (1)
  2. খ)

    সাইমন কমিশন কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার, পাঠ্যবইয়ের কোন মুসলিম মনীষীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত মুসলিম মনীষীর কর্মকান্ড পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে যে সাত সদস্যের কমিশন গঠন করে, তাকে সাইমন কমিশন বলা হয়। এই কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় ভারতীয়রা একে 'শ্বেতাঙ্গ কমিশন' আখ্যা দিয়ে বয়কট ও এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রহমান সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সিপাহি বিপ্লবের পর ব্রিটিশদের রোষানলে পড়ে ভারতীয় মুসলিম সমাজ শিক্ষা-দীক্ষা ও আর্থসামাজিকভাবে চরম পিছিয়ে পড়ে। এহেন পরিস্থিতিতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার এবং ব্রিটিশদের সাথে মুসলিমদের সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি শিক্ষা ছাড়া মুসলমানদের অধঃপতন রোধ সম্ভব নয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রহমান সাহেবও মুসলিম সমাজের একাধারে চিন্তাবিদ ও অগ্রদূত ছিলেন, যিনি মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন। স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রবর্তিত আলীগড় আন্দোলনও ঠিক একই উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল। অতএব, উভয় চরিত্রের কর্মপ্রয়াস ও উদ্দেশ্য অভিন্ন হওয়ায় রহমান সাহেবের সাথে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্যার সৈয়দ আহমদ খান উনিশ শতকের ভারতীয় মুসলিম সমাজের এক অবিসংবাদিত সংস্কারক ও নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন। নিম্নে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তাঁর কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান: স্যার সৈয়দ আহমদ খান উপলব্ধি করেছিলেন যে, পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিতে পাশ্চাত্য ও আধুনিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য তিনি ১৮৫৯ সালে মুরাদাবাদে ও ১৮৬৩ সালে গাজীপুরে আধুনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৮৬৪ সালে তিনি 'সায়েন্টিফিক সোসাইটি' গঠন করে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান বইসমূহ উর্দু ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। ১৮৭৫ সালে তিনি আলিগড়ে 'মুহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৮৭৭ সালে কলেজে এবং পরবর্তীতে ১৯২০ সালে ঐতিহ্যবাহী আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

    ২. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার (আলীগড় আন্দোলন): মুসলমানদের কুসংস্কারমুক্ত ও আধুনিক মননশীল করতে তিনি 'তাহজিবুল আখলাক' নামক সাময়িকী প্রকাশ করেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সংস্কার আন্দোলন ইতিহাসে 'আলীগড় আন্দোলন' নামে পরিচিত, যা মুসলিম সমাজে আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ সৃষ্টি করে।

    ৩. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: তিনি মুসলমানদের তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতি বা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার চেয়ে নিজেদের শিক্ষাদীক্ষায় যোগ্য করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি ভারতীয় মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    পরিশেষে বলা যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খানের বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী কর্মকাণ্ড অবহেলিত মুসলিম সমাজকে নতুন প্রাণশক্তি ও আধুনিকতার দিশা দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন