‍ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধিকার আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বৈষম্য শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল-তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের (প্রবাসী সরকার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক গণতন্ত্র হলো পাকিস্তানের সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান কর্তৃক ১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত একটি সীমিত ও পরোক্ষ নির্বাচকমণ্ডলীভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।

    এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ জন (পরবর্তীতে ১,২০,০০০ জন) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও নগর কমিটির সদস্য নিয়ে একটি নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করেন। সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার হরণ করে কেবল এই মৌলিক গণতন্ত্রীরাই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করার ক্ষমতা পেতেন। মূলত নিজের সামরিক শাসনকে বেসামরিক রূপ দেওয়া ও ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখাই ছিল আইয়ুব খানের এই ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের পাকিস্তান আমলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার প্রশাসনিক বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। রাষ্ট্রের প্রধান নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পদগুলোতে বাঙালিদের কার্যত কোনো সুযোগ দেওয়া হতো না।

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত ছকটিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব ও শাখা কর্মকর্তা পদে দুই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মোট ৯৫৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের কর্মকর্তা ছিলেন ৮৩৫ জন এবং পূর্ব পাকিস্তানের কর্মকর্তা ছিলেন মাত্র ১১৯ জন, যা মোট সংখ্যার মাত্র ১২%। এমনকি নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ পদ সচিবের ১৯ জনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না (০%)। পাঠ্যবইয়ে পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের প্রতি যে নগ্ন আঞ্চলিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য চালানো হয়েছিল, উদ্দীপকের এই পরিসংখ্যানিক তথ্যের সাথে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ও সাদৃশ্য দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রশাসনিক বৈষম্যসহ সার্বিক শোষণ ও বৈষম্য শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালিরা ছিল মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ। অথচ রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বাঙালিদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ প্রায় সব কর্মকর্তাই ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি, যার ফলে বাঙালিদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকারের দাবিগুলো সর্বদা উপেক্ষিত হতো। প্রশাসন পরিচালনায় বাঙালিদের এ ধরনের বঞ্চনা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দেয়।

    এই ধারাবাহিক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন, যা ছিল বাঙালিদের বাঁচার দাবি ও স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই দাবি মেনে না নিয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালানোর পেছনে কাজ করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের কায়েমী স্বার্থবাদী ও বৈষম্যকামী মানসিকতা।

    সুতরাং, প্রশাসনিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য ও বঞ্চনাই বাঙালি জাতিকে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের চরম সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য করে এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন