ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
আবদুর রহমান সিংহাসন আরোহণ করে আম জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হন। কে কোথায় অন্নহীন-বস্ত্রহীন হয়ে পড়ে আছে, নিজে গিয়ে তার সাহায্য করে আসতেন। শক্তিমত্তায়ও তিনি পরাক্রমশালী ছিলেন। পার্শ্ববর্তী চিরশত্রু রাষ্ট্র তাঁর দেশ আক্রমণ করলে তিনি বীরবিক্রমে তা প্রতিহত করেন। শত্রু ঔদ্ধতা প্রকাশ করলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেন। কিন্তু এই চিরশত্রুকে তিনি একাধিকবার বাগে পেয়েও বারবার ক্ষমা করে দেন।
- ক)(1)
খলিফা হারুন-অর-রশীদের মায়ের নাম কী?
- খ)(2)
নহরে জুবাইদা'র পরিচয় সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আবদুর রহমানের মতো প্রজাবাৎসল্যের উদাহরণ খলিফা হারুন-অর-রশীদের বেলায়ও প্রযোজ্য- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি গৃহীত যুদ্ধনীতির আলোকে খলিফা হারুন-অর-রশীদের গৃহীত নীতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা হারুন-অর-রশীদের মায়ের নাম খায়জুরান (বা আল-খায়জুরান)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নহরে জুবাইদা' হলো বাগদাদের খলিফা হারুন-অর-রশীদের মহীয়সী পত্নী রানি জুবাইদা কর্তৃক হাজিদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য নির্মিত একটি ঐতিহাসিক খাল। মক্কায় হজের সময় হাজিদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট প্রত্যক্ষ করে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সুদূর হুনাইন উপত্যকা ও অন্যান্য পাহাড়ি ঝরনা থেকে কৃত্রিম নালা বা খাল খনন করে মক্কা ও আরাফাতের ময়দানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। এই খালটি ইতিহাসে তাঁর নামানুসারে 'নহরে জুবাইদা' নামে অমর হয়ে রয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আবদুর রহমানের মতো প্রজাবাৎসল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদের জীবনেও পরিলক্ষিত হয়।
খলিফা হারুন-অর-রশীদ ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও প্রজাদরদি শাসক। তিনি রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে বাগদাদের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন, যাতে সাধারণ জনগণের প্রকৃত অবস্থা, অভাব-অনটন ও দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কোথাও কোনো দরিদ্র, ক্ষুধার্ত বা অন্নহীন-বস্ত্রহীন মানুষের সন্ধান পেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য পৌঁছে দিতেন। উদ্দীপকের আবদুর রহমান যেমন স্বয়ং গিয়ে অন্নহীন ও বস্ত্রহীন মানুষের অভাব দূর করতেন, খলিফা হারুন-অর-রশীদও ঠিক তেমনি স্বশরীরে প্রজাদের দুঃখ লাঘবে ব্রতী হতেন। ফলে তাঁর শাসনামলে প্রজাসাধারণের মধ্যে শান্তি ও প্রাচুর্য বিরাজ করত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী শত্রুর প্রতি পরাক্রম প্রদর্শন ও বারবার ক্ষমার নীতি খলিফা হারুন-অর-রশীদের বাইজান্টাইন (রোমান) নীতির সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
খলিফা হারুন-অর-রশীদের শাসনামলে আব্বাসীয় খিলাফতের চিরশত্রু ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য। রানি আইরিন মুসলিমদের পরাক্রম দেখে চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত কর প্রদানের শর্তে শান্তি বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সম্রাট নাইসিফোরাস ক্ষমতা গ্রহণ করে পূর্বের চুক্তি ভঙ্গ করেন এবং খলিফাকে উদ্ধত ও অপমানজনক চিঠি পাঠান। খলিফা হারুন-অর-রশীদ দ্রুত বাইজান্টাইন সীমান্তে তীব্র সামরিক অভিযান পরিচালনা করে হিরাক্লিয়া ও টাইয়ানা অধিকার করেন এবং সম্রাটকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। নাইসিফোরাস নতি স্বীকার করে কর দিতে বাধ্য হন। কিন্তু খলিফা সেনা প্রত্যাহার করা মাত্রই নাইসিফোরাস বারবার চুক্তিভঙ্গ করতেন। খলিফা হারুন-অর-রশীদ প্রতিবারই তাঁর ঔদ্ধত্য চূর্ণ করে দাঁতভাঙা জবাব দিতেন, আবার শত্রুর অনুশোচনায় তাকে ক্ষমা করে পুনরায় সন্ধি করতেন।
উদ্দীপকের আবদুর রহমান যেমন শত্রু দেশের আগ্রাসনে বীরবিক্রমে জবাব দিয়েছেন এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বারবার ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন, হারুন-অর-রশীদও তেমনি রোমানদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েও বারবার তাদের জীবন ও সাম্রাজ্য রক্ষা করে ক্ষমার মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও